জাতিসংঘে উন্নয়নশীল বিশ্বের কণ্ঠস্বর জোরদারের পক্ষে চীন

জাতিসংঘে উদীয়মান অর্থনীতি ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব এখনো পর্যাপ্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই । তিনি বলেছেন, বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক সংস্থাটির কর্তৃত্বও ক্রমশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

বুধবার (১৭ জুন) বেইজিংয়ে আয়োজিত এক বিরল সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ করার লক্ষ্যে প্রস্তাবনা সম্বলিত একটি শ্বেতপত্র (হোয়াইট পেপার) প্রকাশ উপলক্ষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

ওয়াং ই বলেন, 'দেশ বড় হোক বা ছোট, শক্তিশালী হোক বা দুর্বল, উন্নত হোক বা উন্নয়নশীল, সব রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমান সদস্য।' তিনি ‘গ্লোবাল সাউথ’ভুক্ত দেশগুলোর কণ্ঠস্বর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একের পর এক নতুন চ্যালেঞ্জের কারণে বিশ্ব এখন পরস্পর-সংযুক্ত নানা সংকটের মুখোমুখি। তার ভাষায়, 'সভ্যতার জাহাজ এখন এমন এক বিপজ্জনক জলপথে প্রবেশ করেছে, যেখানে লুকিয়ে আছে পাথুরে বাধা ও প্রবল ঝড়।'

তিনি বলেন, চলমান বিরোধগুলো গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের প্রতিফলন। একই সঙ্গে 'ব্ল্যাক সোয়ান' ও “গ্রে রাইনো” ধরনের ঘটনা ক্রমাগত দেখা দিচ্ছে। অর্থাৎ, একদিকে অপ্রত্যাশিত সংকট, অন্যদিকে দৃশ্যমান হলেও উপেক্ষিত ঝুঁকি বিশ্বব্যবস্থাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। 
 
বক্তব্যে তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেনের সংঘাতের প্রসঙ্গ উল্লেখ করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

ওয়াং ই বলেন, নতুন এই শ্বেতপত্রের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ উদ্যোগ সফল করতে জাতিসংঘের মর্যাদা, কর্তৃত্ব ও কেন্দ্রীয় ভূমিকা অক্ষুণ্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।