২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে যখন মাঠের লড়াই জমে উঠেছে, তখন মাঠের বাইরে এক অদ্ভুত ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানিকে। যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার উইনস্টন-সেলেমে দলটির বিশ্বকাপ ট্রেইনিং বেসে বিষাক্ত সাপের উপদ্রব দেখা দেওয়ায় থমকে গেছে জার্মানদের স্বাভাবিক অনুশীলন। খেলোয়াড়দের এখন প্রতিটি পদক্ষেপ ফেলার আগে যেন নিচে তাকাতে হচ্ছে।
জার্মান জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জশুয়া কিমিখ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভীতিকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এক সংবাদ সম্মেলনে ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার তাদের ট্রেইনিং ক্যাম্পের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “গতকালই আমরা আমাদের ক্যাম্পের ভেতর একটি সাপ দেখেছি। পরে আমাদের জানানো হয় যে সেটি বেশ বিষাক্ত ছিল। এর কামড় খেলে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ছুটতে হবে। আমার মনে হয় না যে কামড় দিলে মানুষ মারা যাবে, তবে পরিস্থিতি যে অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে, তা নিশ্চিত।”
বিশ্বকাপের মতো একটি মেগা টুর্নামেন্টের মাঝে মনোযোগ ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিস্থিতিকে একেবারেই আদর্শ মনে করছেন না জার্মান অধিনায়ক। কিমিখ ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করে আরও বলেন, “আমরা এখানে এসেছি ফুটবলের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টের জন্য নিজেদের সেরা প্রস্তুতি নিতে। অথচ এখন পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, ফুটবলাররা মাঠে প্রতিটি কদম ফেলার আগে মাটির দিকে তাকিয়ে দেখছে সেখানে সাপ আছে কি না!”
যুক্তরাষ্ট্রের এই নর্থ ক্যারোলাইনা রাজ্যটি মূলত বিভিন্ন প্রজাতির সাপের জন্য পরিচিত। এই অঞ্চলে প্রায় ৩৭ প্রজাতির সাপের বসবাস রয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, জার্মান ফুটবল দল যে সাপের মুখোমুখি হয়েছিল, সেটি সম্ভবত এই অঞ্চলের সবচেয়ে পরিচিত ও বিষাক্ত সাপ ‘কপারহেড’। এই সাপের কামড়ে শরীরে তীব্র যন্ত্রণা ও বিষক্রিয়া তৈরি হয়, যার জন্য জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ে।
বিশ্বকাপের ট্রেইনিং ক্যাম্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে আয়োজকদের এই ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি নিয়ে ইতিমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফুটবল ভক্তদের মাঝে সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাপের এই বিষাক্ত আতঙ্ক কাটিয়ে জার্মান দল কীভাবে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের মনোযোগ ধরে রাখে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।