যন্ত্রনায় কাতর হনুমান চিকিৎসা নিতে নিজেই ক্লিনিকে হাজির

রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় একটি ক্লিনিকে রোগীদের বিশ্রামের জন্য রাখা সারি সারি বেঞ্চের একটিতে মাথা নিচু করে বসে থাকে অসুস্থ হনুমান। 

ক্লিনিকের কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের কেউ মোবাইল ফোনে ভিডিও করেন, কেউ কলা খেতে দেন।

তবে হনুমানটি কখনো মাথা নিচু করে থাকছে, আবার কখনো শুয়ে পড়ছে।

এই দৃশ্য পাংশা পৌর শহরের হামিদা মেডিকেল সেন্টারের। ক্লিনিকটির স্বত্বাধিকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘এই হনুমানটি দুই দিন আগে একবার এসেছিল। সে নিজেই হাত দিয়ে তার কাঁধ দেখিয়ে দিচ্ছিল। সেখানে কয়েকটি সেলাই দেওয়া রয়েছে।’

‘আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, পাংশা উপজেলার হাবাসপুর এলাকায় এক তাল বিক্রেতা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হনুমানটিকে কোপ দিয়েছিল। গতকাল সকালে এসে ১০ মিনিট পর চলে গিয়েছিল, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবার আসে। এখানে কোনো প্রাণী চিকিৎসক না থাকায় আমরা চিকিৎসা দিতে পারছিলাম না,’ বলেন তিনি।

আরিফুল আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও বন বিভাগকে জানানো হলে তারা এসে দুপুর আড়াইটার দিকে হনুমানটির চিকিৎসা শুরু করে।’

বর্তমানে হনুমানটি পাংশা উপজেলা বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে রয়েছে। যোগাযোগ করা হলে বন কর্মকর্তা মো. আজিজুল হক বলেন, ‘শোল্ডারে যেখানে সেলাই দেওয়া ছিল, সেখানে ইনফেকশন হয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হনুমানটিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হনুমানটিকে গতকালের চেয়ে আজ কিছুটা সুস্থ বলে মনে হচ্ছে। খাঁচার ভেতর আটক করতে পারলে উন্নত চিকিৎসা দেওয়া যেত। আমরা খাঁচার ব্যবস্থা করেছি, কিন্তু হনুমানটিকে ধরার জন্য যে ধরনের প্রযুক্তি দরকার তা আমাদের নেই।’

বিষয়টি পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানানো হয়েছে, বলেন আজিজুল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বন কর্মকর্তা বলেন, ‘কে এই হনুমানটিকে আঘাত করেছে আমরা এখনো জানতে পারিনি। বেশ কয়েক দিন আগে হনুমানটিকে আঘাত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে থানায় জানানো হয়েছে। পুলিশ ওই ব্যক্তির খোঁজ করছে।’

তবে পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগের ব্যাপারে তিনি অবগত নন।