চোখের পাতায় টিউমার হলে অবহেলা নয়

চোখের পাতা আমাদের চোখকে সুরক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি মুখম-লের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি করে। কিন্তু এই গুরুত্বপূর্ণ অংশে যদি কোনো অস্বাভাবিক গুটি, মাংসপি- বা টিউমার দেখা দেয়, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। চোখের পাতার টিউমার ত্বক, সেবেসিয়াস গ্রন্থি, পেশি কিংবা অন্যান্য টিস্যু থেকে উৎপন্ন হতে পারে। কিছু টিউমার সৌম্য (ইবহরমহ) হলেও কিছু টিউমার ক্যানসারজনিত (গধষরমহধহঃ) হয়ে জীবন ও দৃষ্টিশক্তির জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

লক্ষণ

চোখের পাতায় দৃশ্যমান গুটি, দীর্ঘদিনের লালভাব, জ¦ালাপোড়া, ক্ষত না শুকানো, চোখের পাপড়ি ঝরে যাওয়া কিংবা রক্তপাত এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় রোগীরা সাধারণ ফোড়া বা অ্যালার্জি ভেবে বিষয়টি অবহেলা করেন, ফলে রোগ জটিল আকার ধারণ করে।

কেন হয়

চোখের পাতার টিউমারের অন্যতম ঝুঁকির কারণ হলো দীর্ঘদিন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে থাকা। এ ছাড়া বংশগত কারণ, বয়স বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়াও এ রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রোগ নির্ণয়

সঠিক রোগ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসক প্রথমে চোখের পাতা পরীক্ষা করেন। প্রয়োজন হলে বায়োপসির মাধ্যমে টিউমারের প্রকৃতি নির্ধারণ করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই পরীক্ষারও প্রয়োজন হতে পারে।

চিকিৎসা

চিকিৎসার ক্ষেত্রে অধিকাংশ টিউমারের প্রধান সমাধান হলো অস্ত্রোপচার। টিউমারের ধরন ও বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি কিংবা ক্রায়োথেরাপিরও প্রয়োজন হতে পারে। দ্রুত শনাক্তকরণ ও যথাযথ চিকিৎসা রোগীর সুস্থতার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়।

তাই চোখের পাতায় কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসাই চোখের স্বাস্থ্য রক্ষার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।