‘মেনে নিন মেসিই সর্বকালের সেরা’

২০২৬ বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির সেই মহাকাব্যিক হ্যাটট্রিকের পর পুরো ফুটবলবিশ্ব এখন আর্জেন্টিনা অধিনায়কের বন্দনায় মত্ত। ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়সে এসেও বিশ্বমঞ্চে এমন অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখে স্তব্ধ হয়ে গেছেন সাবেক ফুটবলার ও বোদ্ধারা।

ব্রাজিলের কিংবদন্তি ও বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক রোনালদো নাজারিও বলেছেন, ‘লিওনেল মেসি যখনই সবুজ ঘাসে পা রাখেন, বাকি সবকিছুই ঐতিহাসিক এবং দৃষ্টিনন্দন রূপ নেয়। বিশ্বের এখন আর লুকিয়ে না থেকে এই সত্যটি মেনে নেওয়ার সময় এসেছে যে, তিনিই ফুটবল ইতিহাসের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খেলোয়াড়। প্রতিটি মৌসুমে এবং বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনি ক্রমাগত পারফর্ম করে যাচ্ছেন; তা সত্ত্বেও, তাকে নিয়ে এখনো কিছু সংশয় রয়ে গেছে। তবে এটি এমন এক অবিস্মরণীয় এবং ঐতিহাসিক রাত, যা চিরকালের জন্য ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।’

বার্সেলোনায় মেসির সাবেক সতীর্থ এবং ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরি অঁরি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রসঙ্গ টেনে অঁরি বলেছেন, ‘আমরা ম্যাচের আগেই বলেছিলাম যে, এই লোকটা (মেসি) এবং আগামীকাল আমরা যাকে মাঠে দেখতে যাচ্ছি (রোনালদো), তারা দুজনেই আসলে চাঁদের বাসিন্দা (অন্য গ্রহের মানুষ)। কিন্তু মেসি আমাদের আরও একবার মনে করিয়ে দিলেন যে, তিনি কেন অনন্য। একই সঙ্গে আর্জেন্টিনাও বিশ্বকে মনে করিয়ে দিল যে, তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন। তবে এত কিছুর পরেও বলব লিও আসলেই আলাদা।’

সুইডিশ কিংবদন্তি জøাতান ইব্রাহিমোভিচ বিশ্বমঞ্চে মেসির এমন জাদুকরী পারফরম্যান্স তিনি আগে থেকেই আশা করেছিলেন, ‘আমি তো আগেই বলেছিলাম স্রেফ চোখ রাখুন আর উপভোগ করুন! আজ আমরা সেটাই করেছি। আজকের দিনটি ফুটবল দুনিয়ার বড় বড় মহাতারকাদের মেলায় ভরপুর ছিল এবং তারা প্রত্যেকেই যার যার সেরাটা উজাড় করে দিয়েছেন।’

ভেনেজুয়েলার সাবেক আন্তর্জাতিক ফুটবলার ও বর্তমান বিশ্লেষক আলেহান্দ্রো মোরেনো মূলত আলোকপাত করেছেন এই ম্যাচের আগে তৈরি হওয়া মেসির ফিটনেস জল্পনা নিয়ে, ‘সত্যি বলতে, এই ম্যাচে নামার আগে মেসির শারীরিক অবস্থা কেমন থাকবে তা আমরা জানতাম না। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে এই প্রশ্ন তোলাটা যৌক্তিক ছিল। কিন্তু মাঠে তাকে মোটেও ভুগতে দেখা যায়নি। ম্যাচের শুরু থেকেই তার আগ্রহের স্তর ছিল দেখার মতো। আক্রমণভাগ তো বটেই, এমনকি নিজের গোলপোস্টের খুব কাছাকাছি গিয়ে ওয়ান-ভার্সাস-ওয়ান (১ বনাম ১) পরিস্থিতিতে যেভাবে তিনি বল কেড়ে নিচ্ছিলেন, তা কোনো প্রথাগত চিত্রনাট্যে থাকার কথা ছিল না! আমরা তো মেসির সঙ্গে ডিফেন্ডিং মেলাই না, অথচ তিনি সেখানেও সফল।’

মেসির আক্রমণাত্মক প্রতিভার প্রশংসা করে মোরেনো আরও যোগ করেন, ‘১৮-গজ বক্সের আশেপাশে তিনি যখনই বল ছুঁয়েছেন, পুরো স্টেডিয়াম সোজা হয়ে বসে ভাবছিল’ এখানে হয়তো অলৌকিক কিছু হতে যাচ্ছে। সতীর্থরা স্রেফ তাকে বল দেয়, আর তিনি তাদের সব সমস্যার সমাধান করে দেন। আর আজ যখন সতীর্থদের খুঁজে পাচ্ছিলেন না, তখন নিজেই সব সামলে নিলেন।’