তেলের দাম নিম্নমুখী, স্বর্ণের বাজার ঊর্ধ্বমুখী

আন্তর্জাতিক বাজারে বড় দরপতনের পর ফের স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতুটির দাম ১ শতাংশের বেশি বেড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চুক্তির প্রভাবে তেলের দাম কমায় মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা কিছুটা কমেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের বাজারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্পট গোল্ডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১১ দশমিক ৮৩ ডলারে লেনদেন হয়েছে। এর আগের দিন বুধবার মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বুধবারের বড় পতনের পর বিনিয়োগকারীরা তাদের শর্ট পজিশন গুটিয়ে নেওয়ায় স্বর্ণের চাহিদা কিছুটা বেড়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির উন্নতি স্বর্ণের বাজারকে সহায়তা করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন অন্তর্বর্তী চুক্তি ও যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ৬০ দিন বাড়ানোর খবর তেলের বাজারে স্বস্তি এনেছে, যা পরোক্ষভাবে স্বর্ণের দর বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

সাধারণত তেলের উচ্চমূল্য মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ায় এবং সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি করে। সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের বিনিয়োগ আকর্ষণ কমে যায়, কারণ এই ধাতু থেকে কোনো সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায় না। তবে বর্তমান পরিস্থিতি বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের দিকে পুনরায় আকৃষ্ট করছে।

তবে স্বর্ণের এই দাম বৃদ্ধির ধারা কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ওএএনডিএ-এর জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক কেলভিন ওংয়ের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের কঠোর অবস্থান স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধির গতিকে সীমিত রাখতে পারে। বাজার এখন সুদের হারের প্রভাব নতুন করে পর্যালোচনা করছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার স্পট সিলভারের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬৯ দশমিক ০৩ ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া প্লাটিনাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭৫৯ দশমিক ৭৭ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ দশমিক ২৬ ডলারে লেনদেন হয়েছে।