ফ্রান্সে আয়োজিত জি-৭ সম্মেলনের এক ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ব্যতিক্রমী মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প মোদির নেতৃত্বের ধরন এবং তার ব্যক্তিত্বের বৈপরীত্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে ‘দেবদূতের মতো’ এবং ‘টোটাল কিলার’ বলে আখ্যায়িত করেন। তবে তার এই মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল মোদির কঠোর ব্যক্তিত্ব এবং দরকষাকষির অসাধারণ দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করা।
দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, নরেন্দ্র মোদিকে দেখতে অত্যন্ত শান্ত এবং ভদ্র মনে হলেও, বাস্তব জীবনে তিনি একজন অত্যন্ত কঠোর ও দক্ষ নেতা। ট্রাম্পের মতে, এমন ব্যক্তিত্বের মানুষ খুব কমই দেখা যায় যিনি একই সঙ্গে দেখতে শান্ত কিন্তু কাজের ক্ষেত্রে আপসহীন। ট্রাম্প বলেন, এই অসাধারণ নেতৃত্বের কারণেই তিনি মোদির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করেন।
হোয়াইট হাউসে ভারত সবসময় একজন অকৃত্রিম বন্ধু পাবে উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন, মোদি শুধু ভারতীয় জনগণের কল্যাণেই কাজ করেন না, বরং যুক্তরাষ্ট্রকেও তিনি গুরুত্বের সাথে দেখেন। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে এবং ভবিষ্যতে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে বলে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ‘হাউডি মোদি’ অনুষ্ঠানের সাফল্যের কথা স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে ভারত সফরের আগ্রহের কথাও জানান।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের বিশেষ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এখন নতুন গতি পেয়েছে উল্লেখ করে মোদি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতির স্বার্থে হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা অত্যন্ত জরুরি। ভারত সবসময় নৌ চলাচলের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং এ বিষয়ে দুই দেশ ভবিষ্যতে একসাথে কাজ করবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
সামগ্রিকভাবে, জি-৭ সম্মেলনের এই বৈঠক দুই বিশ্বনেতার মধ্যকার ব্যক্তিগত উষ্ণতা এবং ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। মোদির কঠোর ও দক্ষ নেতৃত্বকে ট্রাম্প যেভাবে বিশ্বমঞ্চে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।