সোনাগাজীতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অনশন

ফেসবুকে প্রেমের সূত্র ধরে বিয়ের দাবিতে নীলফামারি জেলার তরুণী সোনাগাজীর প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছে। গত ১৬ জুন রাতে ওই তরুণী অনশন শুরু করে।

এর পর গতকাল বুধবার রাতে বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। উৎসুক জনতা ওই বাড়িতে ভিড় জমান। তরুণীর অনশনের পর ঘরে তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে গেছে প্রেমিক ও তার পরিবারের সদস্যরা।

তরুণীর প্রেমিকের নাম আরিফ হোসেন। সে উপজেলার  উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের ভাদাদিয়া গ্রামের আবদুল আজিজ সারেং বাড়ির সাহাব উদ্দিনের ছেলে। অনশনরত তরুণীর নাম ফেরদৌসী আক্তার। সে নীলফামারি জেলার সৈয়দপুর পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের মশরত ধলিয়া সর্দার পাড়ার মো. কালা মিয়ার মেয়ে।

এদিকে তরুণীর কারণে যুবকের পরিবারের সদস্যরা ঘরে ঢুকতে পারছেন না বলে দাবি করে তাকে হ্যানিট্র্যাপের সদস্য, দুশ্চরিত্রা ও প্রতারক আখ্যা দিয়ে বুধবার (১৭ জুন) রাতে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই  আরিফের  মা নারগিস আক্তার।

স্থানীয় এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে আরিফ হোসেন তিন বছর আগে  ওমান যান। গত এক বছর আগে ফেসবুকে মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এক মাস আগে আরিফ দুই মাসের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসেন। আরিফ দেশে আসার খবর শুনে ওই তরুণী ১৫দিন আগে তার সঙ্গে দেখা করতে ফেনীর মহিপালে যান। তাকে সরাসরি দেখার পর পছন্দ না হওয়ায় তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে আরিফ তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে ওই তরুণী  ঠিকানা সংগ্রহ করে আরিফের  বাড়িতে যান। এ সময় ওই তরুণী তার ঘরে ঢুকতে চাইলে আরিফসহ তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে অন্যত্র চলে যান।  

এ ঘটনায় আরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে রাতেই পুলিশের জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিলে সোনাগাজী মডেল থানার এসআই তোহুর আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে আরিফ তার পরিবারের কোনো সদস্যকে না পেয়ে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ রাকিবকে ডেকে এনে ওই তরুণীকে দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে পুলিশ থানায় ফিরে যায়।

ফেরদৌসী আক্তার বলেন, বিয়ের কথা বলে আরিফ আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়েছে। কিন্তু সে আমাকে দেখার পর থেকে বিয়ে না করার জন্য নানা টালবাহানা করছে। আমি তার বাড়িতে আসার পর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে সে তার পিতা-মাতাকে নিয়ে অন্যত্র চলে গেছে। সে আমাকে বিয়ে করা ছাড়া আমি তার বাড়ি ছাড়ব না।

আরিফের মা নারগিস আক্তার বলেন, আমরা দরিদ্র পরিবারের লোক। ধার-দেনা করে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করে আমার ছেলেকে ওমান পাঠিয়েছি। এখনও কর্জ পরিশোধ করতে পারিনি। ওই তরুণী একজন হ্যানিট্র্যাপের সদস্য। ফেসবুকে এক সুন্দরী নারীর ছবি দিয়ে আইডি খুলে আমার ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে এখন সে বিয়ের স্বপ্ন দেখছেন। আমার স্বামী মতিগঞ্জ আরএম হাট উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে কোনোরকম সংসার চালায়। ভাঙা ঘরে দিনযাপন করছি। ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর কর্জও পরিশোধ করতে পারিনি। তাকে বিয়ে করানো আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমার ছেলে যদি প্রেম করে কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে সে আমার ছেলের বিরুদ্ধে মামলা করুক, আইনগত ব্যবস্থা নিক। আমিও আইনগত প্রতিকার পেতে থানায় লিখিত আবেদন করেছি।

সোনাগাজী মডেল থানার  ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, পুলিশ উবয়পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে। আরিফের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।