রিজার্ভ চুরি

তদন্তে অভিযুক্তদের পাসপোর্ট ব্লক, যেকোনো সময় গ্রেপ্তার

দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি। এ ঘটনায় সাত দেশের ৬৪ জনের নাম এসেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অনুসন্ধানে। এর মধ্যে বাংলাদেশি অন্তত ১০ জনের সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে তদন্ত সংস্থা। দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইতিমধ্যে তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দিয়েছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। এ ছাড়া বিভিন্ন সংস্থার নজরদারিতে রয়েছেন তারা। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্রে নাম থাকা বাংলাদেশি ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে সিআইডি। তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে, যেকোনো দিন অভিযোগপত্র দেবে সংস্থাটি। অভিযোগপত্রে সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংকের ৯ কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট (এসডব্লিউআইএফটি) বার্তা জালিয়াতির মাধ্যমে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার সরিয়ে নেয় আন্তর্জাতিক হ্যাকার চক্র। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে চলতি বছরের ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে আইনি মতামতের জন্য অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বাংলাদেশসহ সাত দেশের ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, বাংলাদেশের ১০, শ্রীলংকার ৮, ভারতের ৪, চীনের ৩, উত্তর কোরিয়ার ২ এবং জাপানের এক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রিজার্ভ চুরির মামলার অভিযোগপত্রের বিষয়ে সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ডিআইজি আলি আকবর খান বলেন, এ মামলার তদন্ত আসলে অন্যান্য মামলার তদন্তের মতোই চলমান। এতে দীর্ঘমেয়াদি সময় লেগেছে, এটি সত্য। কিন্তু টেকনিক্যাল কারণও আছে। যেহেতু এটা অর্ডিনারি কোনো মামলা না। অনেক দেশি-বিদেশি সংস্থার সহায়তা নিতে হয়েছে। তবে খুব শিগগির মামলার তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, তদন্তে যাদের নাম আসছে, ইতিমধ্যে বিভিন্ন সংস্থা তাদের নজরদারিতে রাখছেন। এ ছাড়া বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই। কারণ দেশের সব ইমিগ্রেশনে তাদের পাসপোর্ট ব্লক করে দেওয়া হয়েছে। যেকোনো সময় তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান গণমাধ্যমকে বলেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় প্রস্তুত করা খসড়া অভিযোগপত্রে বাংলাদেশের ১০ কর্মকর্তার নাম আসায় স্বাভাবিকভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভাবমূর্তি ও আস্থার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলেন, অপরাধী যে-ই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর অবস্থান নেবে। আদালত যাদের দোষী সাব্যস্ত করবে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হওয়া উচিত বলে মনে করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

আরিফ হোসেন খান বলেন, রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের অপরাধে জড়ানোর চিন্তা করবেন না। একই সঙ্গে এটি আর্থিক খাতে জবাবদিহি ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে।

বাংলাদেশের অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন- বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান, সাবেক ডেপুটি গভর্নর আবুল কাসেম, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভংকর সাহা, রেজাউল করিম, মেজবাউল হক ও এএফএম আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনিস এ খানসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম অভিযোগপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।