ইংলিশ ফুটবলের আগ্রাসী রূপান্তর

ডালাসে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কেবল ইংল্যান্ডের ৩ পয়েন্ট পাওয়ার লড়াই ছিল না, বরং এটি ছিল টমাস টুখেলের অধীনে থ্রি-লায়ন্সদের আগ্রাসী ও নির্ভীক ফুটবল সংস্কৃতির এক দুর্দান্ত প্রদর্শনী। চেনা স্নায়ুচাপ আর প্রথমার্ধের রক্ষণাত্মক দুর্বলতা কাটিয়ে যেভাবে দ্বিতীয়ার্ধে হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা মাঠ কাঁপালেন, তা পুরো টুর্নামেন্টের প্রতিপক্ষদের জন্য এক কড়া বার্তা। ৪-২ গোলের এই রোমাঞ্চকর জয়ে ইংল্যান্ড প্রমাণ করেছে, টুখেলের অধীনে তারা এখন যেকোনো পরিস্থিতিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে প্রস্তুত।

ইংলিশদের এই দুর্দান্ত জয়ের রূপকার ছিলেন অধিনায়ক কেইন, যিনি একই সঙ্গে বিশ্বমঞ্চের একাধিক রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। ম্যাচের ১২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে তিনি বিশ্বকাপে (টাইব্রেকার বাদে) নিজের ৫ম গোলটি পান, যা তাকে লিওনেল মেসিকে টপকে বিশ্বকাপের সফলতম পেনাল্টি টেকার বা পেনাল্টির নতুন রাজা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। এরপর ডেকলান রাইসের কর্নার থেকে বুলেট হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে তিনি কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকারের বিশ্বকাপে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসান এবং ডেভিড বেকহ্যামের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে টানা তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপে (২০১৮, ২০২২, ২০২৬) গোল করার অনন্য নজির গড়েন।

তবে ম্যাচের প্রথমার্ধটা ইংল্যান্ডের জন্য এত সহজ ছিল না। কেইনের গোলের পর মার্টিন বাটুরিনার চমৎকার শটে সমতায় ফেরে ক্রোয়েশিয়া। কেইন আবারও ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নিলেও বিরতির ঠিক আগে পেতার মুসার ভলিতে ২-২ স্কোরলাইনে শেষ হয় প্রথম ৪৫ মিনিট। প্রথমার্ধে মাঠের খেলায় এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব এবং অতিরিক্ত সচেতনতা স্পষ্ট ছিল, যা দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই টুখেলের চাণক্য নীতিতে কর্পূরের মতো উড়ে যায়।

বিরতির পর ইংল্যান্ডের এই রূপান্তরের পেছনে ছিল ডাগআউটে টুখেলের এক সাহসী টোটকা। ম্যাচ শেষে এই জার্মান কোচ বলেন, ‘প্রথমার্ধে আমরা বড্ড বেশি চিন্তিত ছিলাম এবং কেবল লিড ধরে রাখতেই ব্যস্ত ছিলাম। তবে বিরতিতে আমি ওদের সাহসী হতে বলেছিলাম। বলেছি, যদি হারতেও হয়, তবে আমাদের নিজস্ব চেনা স্টাইলে খেলেই হারব।’

অধিনায়ক কেইনও কোচের এই পেপ-টককে প্রশংসায় ভাসিয়ে বলেন, ‘বিরতির পর কোচের কথামতো আমরা পুরো গতিতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম এবং ক্রোয়েশিয়া সেই গতি সামলাতে পারেনি।’ এদিকে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ নিয়ে আবেগপ্লুত টুখেল ফিফার কাছে মজার ছলে আবদার করে বলেন, ‘জাতীয় সংগীতের সময় ক্যামেরাম্যানদের দেয়ালের জন্য আমি আমার দলকেই দেখতে পারছিলাম না! এটি আমার জীবনের বিশেষ মুহূর্ত, যা একটু হলেও মাটি হয়েছে।’

বিপরীতে, সেট পিস থেকে গোল খাওয়াকে ‘বিপর্যয়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জøাতকো দালিচ। তিনি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা জানতাম ইংল্যান্ড সেট পিসে কতটা শক্তিশালী, তাও এমন ভুল মেনে নেওয়া যায় না। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বেলিংহামের ওই গোলের পর ১০ মিনিট আমরা বড্ড বাজে খেলেছি। এই টুর্নামেন্টে আমাদের আর কোনো ভুল করার সুযোগ নেই। পানামা ও ঘানার বিপক্ষে পরবর্তী ম্যাচগুলো আমাদের জন্য নতুন শুরু।’ এই জয়ে গ্রুপ ‘এল’-এর শীর্ষে থাকা ইংল্যান্ড আগামী ২৪ জুন মুখোমুখি হবে ঘানার, আর একই দিনে ক্রোয়েশিয়া লড়বে পানামার বিপক্ষে।