ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতিতে আরও একটি বড় ধাক্কা খেলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তার বাছাই করা দলনেতা নয়, বিধানসভার স্পিকার রথীন বসুর সিদ্ধান্তেই সিলমোহর দিলেন কলকাতা হাইকোর্ট। বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ই থাকছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৮০টি আসনে জয় পেয়েছে তৃণমূল। সেই হিসেবে তারাই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল। দলের চেয়ারপারসন হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছিলেন বালিগঞ্জের বিধায়ক শোভনদেবকে। সে কথা স্পিকারকে জানিয়ে গত ৯ মে একটি চিঠি দেওয়া হয় তৃণমূলের পক্ষ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, তার ভিত্তিতে স্পিকার কোনো পদক্ষেপই করেননি। পরে ওই চিঠিতে বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ওঠে। দলবিরোধী কাজের জন্য ১ জুন বহিষ্কার করা হয় ঋতব্রত এবং এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহাকে। এর পর ৩ জুন বহিষ্কৃত সেই ঋতব্রতকেই বিরোধী দলনেতা বেছে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ বিধায়কেরা স্পিকারকে আর একটি চিঠি দেন। স্পিকার সেই চিঠির ভিত্তিতে পদক্ষেপ করেন এবং ঋতব্রতকে বিরোধী দলনেতা ঘোষণা করেন। এই প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন শোভনদেব। তবে স্পিকারের সিদ্ধান্তের ওপর গতকাল বৃহস্পতিবার কোনো হস্তক্ষেপ করল না আদালত। হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, আগামী ২৮ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। ওই দিন সব পক্ষকে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি।
যেদিন বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের সূচনা, সেদিনই এই নির্দেশ আসা রাজনৈতিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এর ফলে রাজনৈতিক গুরুত্ব কমতে পারে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার। শোভনদেবের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা অন্তর্বর্তী নির্দেশ চেয়েছিলাম, সেটা দেয়নি আদালত। তবে মামলা অ্যাডমিশন করেছে কোর্ট। শুনানি রেখেছে জুলাই মাসে। হলফনামা দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে। ঋতব্রতের পক্ষে সওয়াল আদালতে করেছেন আইনজীবী জয়দীপ কর। ঋতব্রতের কাছে ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থন রয়েছে। ঋতব্রতের যুক্তির বিরোধিতা করেন শোভনদেবের পক্ষের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মতে, বিরোধী দলনেতা কে হবেন, তা রাজনৈতিক দল ঠিক করে। বিধায়ক দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা সেখানে বিবেচ্য হতে পারে না। কিছু বিধায়ক আলাদা গোষ্ঠী তৈরি করে দলের সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারেন না বলে দাবি করেছেন কল্যাণ।