কাতারকে ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদেরন প্রথম জয়েরআনন্দ ছাপিয়ে কানাডিয়ান শিবিরে এখন শুধুই বিষাদের ছায়া। ম্যাচের ৫১ মিনিটে কানাডার অন্যতম প্রধান তারকা ইসমায়েল কোনে মারাত্মক ফাউলের শিকার হয়ে পা হারিয়েছেন।
প্রথমার্ধেই কাতারের ডিফেন্ডার হোমাম আহমেদ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় কাতার। সেই সুযোগে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে কানাডা। কিন্তু ম্যাচের ৫১ মিনিটে কাতারের মিডফিল্ডার আসিম মাদিবো পেছন থেকে অত্যন্ত বাজেভাবে লাথি মারেন ইসমায়েল কোনেকে।
টেলিভিশন স্ক্রিনে দেখা যায়, চোট পাওয়ার পরপরই কোনে যখন নিজের বাম পায়ের নিচের অংশের দিকে তাকান, সেটি পুরোপুরি ভেঙে মচকে গেছে।
সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে ডিফেন্ডার অ্যালিস্টার জনস্টন ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার এক অনুশীলনে সতীর্থ তাজন বুকাননের চোটের স্মৃতি মনে করে বলেন, "আমি মাঠের অন্য প্রান্তে ছিলাম। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে মনে হলো ঠিক যেনো একটা বুলেটের শব্দ শুনলাম। ও এমন একটা ছেলে যে খেলাটাকে ভীষণ ভালোবাসে। রাতভর ছেলেদের সাথে টু-টাচ খেলে কাটিয়ে দিতে পারে। অহেতুক একটা চ্যালেঞ্জের কারণে ওকে এভাবে মাঠ ছাড়তে দেখাটা ভীষণ হতাশাজনক।"
ম্যাচ শেষে হ্যাটট্রিক হিরো জোনাথন ডেভিড নিজের রেকর্ডের আনন্দ ভুলে বলেন, "এই দলের কাছে কোনে কী, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আপনি দলের যেকোনো ছেলেকে এই প্রশ্ন করুন, সবাই একই কথা বলবে। আমরা ওকে ভীষণ ভালোবাসি।"
ম্যাচ চলাকালীন কোনের বদলি হিসেবে নামা নাথান সালিবা কানাডার চতুর্থ গোলটি করে কোনের জার্সি উঁচিয়ে ধরে সতীর্থের প্রতি সম্মান জানান।
অন্যদিকে, কানাডার গোলরক্ষক ম্যাক্সিম ক্রেপো, যিনি নিজে ২০২২ সালে একই ধরণের ভয়াবহ চোটের কারণে কাতার বিশ্বকাপে খেলতে পারেননি, তিনি তরুণ ডিফেন্ডার লুক ডি ফুগারোলেসকে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় বলেন, "ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন, তবে আমরা সবাই একই আবেগ দিয়ে যাচ্ছি। আমি শুধু ওকে (ফুগারোলেস) বলছিলাম— ‘তুমি একা নও। আমি ঠিক তোমার মতোই অনুভব করছি। তবে মাঠে এখন আমাদের একটাই লক্ষ্য— কোনের জন্য আমাদের কাজটা (বিশ্বকাপ মিশন) সফলভাবে শেষ করতে হবে।’"
কাতারের বিপক্ষে এই দুর্দান্ত জয়ের পরও ইসমায়েল কোনের বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া কানাডা দলের জন্য এক বড় ধাক্কা। তবে সতীর্থদের প্রত্যয়, এই চোট তাদের আরও বেশি একতাবদ্ধ করবে এবং কোনের জন্যই তারা টুর্নামেন্টে আরও বহুদূর যেতে লড়বে।