মেসির বাবার মৃত্যুর মিথ্যা খবর দিয়ে চাকরি গেলো আর্জেন্টিনা সাংবাদিকের

আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ০৩:০৮ পিএম

বিশ্বকাপ চলাকালীন লিওনেল মেসির বাবা হোর্হে মেসি মারা গেছেন—এমন একটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা খবর প্রচার করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আর্জেন্টিনার এক টিভি উপস্থাপিকা। এই কাণ্ডজ্ঞানহীন ভুলের খেসারত হিসেবে শেষ পর্যন্ত চাকরিই হারাতে হয়েছে তাকে।

আর্জেন্টাইন 'লুজু টিভি'র ‘এল শো দেল ভেরানো’ অনুষ্ঠানে ৫১ বছর বয়সী উপস্থাপিকা ফ্লোরেনসিয়া পেনা লাইভ সম্প্রচার চলাকালীন দাবি করেন, হোর্হে মেসি মারা গেছেন এবং এই শোকের কারণে মেসিকে বিশ্বকাপ ছেড়ে চলে যেতে হবে। আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৩-০ গোলের জয়ের ম্যাচে ৩৮ বছর বয়সী মেসির আবেগঘন ও অশ্রুসিক্ত উদযাপনের পর পেনা এই মন্তব্য করেন।

মিথ্যা এই খবরটি ছড়িয়ে পড়ার পর মেসির পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "হোর্হে মেসি বর্তমানে একটি স্বাস্থ্যগত জটিলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এবং তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে থেকে ভালোভাবেই সেরে উঠছেন। কিন্তু গত কয়েক ঘণ্টায় যেভাবে সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে সংবেদনশীলতা ও ন্যূনতম সম্মান ছাড়াই ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়েছে, তাতে পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত।"

পারিবারিক কোনো সূত্র ছাড়া অন্য কোনো তথ্যকে বিশ্বাস না করার জন্য বিবৃতিতে অনুরোধ জানানো হয়।

ঘটনার পর নিজের ভুল স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষমা চেয়েছেন ফ্লোরেনসিয়া পেনা। সেই সঙ্গে লুজু টিভি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। পেনা বলেন, "লাইভ চলাকালীন প্রোডাকশন টিম আমাকে এই তথ্যটি নিশ্চিত করেছিল এবং আমি তা বিশ্বাস করেছিলাম। তবুও এই মারাত্মক ভুলের দায় আমি এড়াতে পারি না। আমি মেসির পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।"

তবে কেবল উপস্থাপিকার পদত্যাগই নয়, লুজু টিভি কর্তৃপক্ষও এই ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। চ্যানেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ যাচাই ছাড়া এমন সংবেদনশীল তথ্য প্রচার করা সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য নয়। তাই পেনার পাশাপাশি এই ভুলের পেছনে জড়িত প্রোডাকশন টিমের অন্যান্য দায়িত্বশীলদেরও চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

কেন কেঁদেছিলেন মেসি?

আলজেরিয়ার বিপক্ষে দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক করার পর মাঠে মেসির কেঁদে ফেলার কারণটি যে ফুটবল বা বাবার মৃত্যুর গুজবের সাথে সম্পর্কিত নয়, তা ম্যাচ শেষে নিজেই পরিষ্কার করেছেন এই মহাতারকা। ইন্টার মায়ামি ফরোয়ার্ড বলেন, "আমি কেন কেঁদেছিলাম? সেটি ফুটবলের সাথে সম্পৃক্ত কোনো বিষয় ছিল না। বিগত কিছু দিন আমি বেশ কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। তবে কঠিন এই সময়ে সবসময় পাশে থাকার জন্য আমি দলের সব খেলোয়াড় ও স্টাফদের প্রতি কৃতজ্ঞ।"

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত