গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে আলোচনায় ভেনেজুয়েলা সরকার ও বিরোধী দল

ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক রূপান্তরের পথ খুঁজতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিরোধী দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে আয়োজিত এ বৈঠককে দেশটির রাজনৈতিক সংকট নিরসনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাজধানী কারাকাসে জাতীয় পরিষদের সভাপতি হোর্হে রদ্রিগেজ এবং সাবেক বিরোধীদলীয় আইনপ্রণেতা দিনোরা ফিগুয়েরার মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আট বছর নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর একই দিন দেশে ফেরেন ফিগুয়েরা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট বলেন, একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ভেনেজুয়েলা গঠনের লক্ষ্যে এটি দীর্ঘ ও পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ।

৬৫ বছর বয়সী দিনোরা ফিগুয়েরা ২০১৫ সালে বিরোধী নিয়ন্ত্রিত জাতীয় পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন। রাজনৈতিক চাপ, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগে তিনি ২০১৮ সালে দেশ ছাড়েন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনী আটক করার পর থেকে দেশটির অন্তর্বর্তী প্রশাসনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তার সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেই আলোচনায় অংশ নেন হোর্হে রদ্রিগেজ।

দেশে ফিরে ফিগুয়েরা বিরোধী নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর উদ্যোগ থেকে নিজেকে কিছুটা দূরে রাখার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, একটি বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন পরিষদ (সিএনই) গঠনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এগিয়ে নিতে তিনি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশে ফিরেছেন।

পরে জাতীয় পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, ২০১৫-২০২০ মেয়াদের বিরোধী আইনপ্রণেতাদের প্রতিনিধি হিসেবে ফিগুয়েরা হোর্হে রদ্রিগেজের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রোডম্যাপ নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে কারাকাসে মার্কিন দূতাবাস জানিয়েছে, গত এপ্রিল মাসে ফিগুয়েরা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ভেনেজুয়েলায় স্থিতিশীল, সুশৃঙ্খল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সম্প্রতি বলেন, ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অবাধ, সুষ্ঠু ও বহুদলীয় নির্বাচনের ওপর। তার মতে, এ লক্ষ্য অর্জনে একটি নতুন ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন কমিশন গঠন অপরিহার্য।