মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে আজ সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়রা। ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৮৯ রানে। ৭ রানের জয়ের পাশাপাশি ১ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে অজিরা।
যদিও বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে প্রথম ৩ ওভারেই ৪২ রান তোলেন দুজন। তবে এই গতি ধরে রাখতে গিয়ে চতুর্থ ওভারে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হন তানজিদ। ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর নতুন ব্যাটার সৌম্য সরকার (১৫) সুবিধা করতে পারেননি। তৃতীয় উইকেটে পারভেজ হোসেনকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নেন সাইফ। পরে পারভেজ ২২ বলে ৩৬ রান করে আউট হলে ভাঙে ৫৩ রানের জুটি। সাইফও পরের ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রান করে সাজঘরে ফেরেন।
১৪তম ওভারে ১৩৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শেষ ৪ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৪ রানের। কিন্তু শামীম পাটোয়ারী ৮ বলে ৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে আরও চাপে ফেলেন। ১৭তম ওভার থেকে আসে মাত্র ২ রান। শেষ দিকে তাওহীদ চেষ্টা করলেও কাজে আসেনি তার ২২ বলে ৩৫ রানের ইনিংসটি।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই তাণ্ডব চালান অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার জশ ইংলিস ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ। শেখ মেহেদী হাসানের পরিবর্তে একাদশে ফেরা নাসুম আহমেদের করা প্রথম ওভার থেকে দুজন ১২ রান তোলেন। দ্বিতীয় ওভারে আরও আগ্রাসী ব্যাট করেন ইংলিস ও মার্শ। আব্দুল গাফফার সাকলাইনের করা সেই ওভার থেকে আসে ১২ রান। তবে পরের ওভারে লাগাম টেনে ধরেন নাসুম। ১১ রানে ফেরান ইংলিসকে।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে নাহিদ রানা প্রথমবার বল হাতে নিয়েই সাফল্য পান। এই ডানহাতি পেসারের গতি সামলাতে না পেরে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কুপার কনোলি (১)। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে মার্শকে (২০) থামান মুস্তাফিজুর রহমান। এতে ৬ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ৪৪ রান তোলে সফরকারীরা।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও পরে দ্রুত রান তুলতে থাকেন দুজন। ৫০ বলে ৯৭ রানের এই জুটি ভাঙেন সাকলাইন। ডেভিড আউট হন ২৬ বলে ৪৫ রান করে। এরপর নিখিল চৌধুরীকে (৮) নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান নাসুম। অন্য প্রান্তে অবশ্য ফিফটি তুলে নেন রেনশ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে নাসুমই সর্বাধিক ২ উইকেট নেন। সাকলাইন ১ উইকেট নিতে খরচ করেন ৫৩ রান।