মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, সিলেট অঞ্চলের পর্যটন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্রীমঙ্গলের ফুলছড়া চা বাগান মাঠে অনুষ্ঠিত হারমোনি ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, সিলেট অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই পর্যটন বিকাশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। পর্যটনকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণ সম্ভব। এ কারণে জাতীয় পর্যটন মাস্টারপ্ল্যানে সিলেটকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোথায় কী ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন, সে বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী বিমানবন্দরটিকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। খুব শিগগিরই আধুনিকায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য বিমানবন্দর উন্নয়নেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
পর্যটন খাতকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সিলেটকে দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলকে দেশের ‘চায়ের রাজধানী’ আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এ অঞ্চল শুধু চায়ের জন্যই নয়, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্যও বিশেষভাবে পরিচিত। এখানে ও আশপাশে বসবাসকারী বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনধারা, পোশাক, খাদ্যাভ্যাস ও লোকজ ঐতিহ্য বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ভাণ্ডারকে সমৃদ্ধ করেছে।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং দেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অবদান গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতের বাংলাদেশ বিনির্মাণেও তাদের ভূমিকা অপরিহার্য।
‘হারমোনি’ শব্দের তাৎপর্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের বার্তাই বহন করে হারমোনি। এ উৎসব সেই চেতনারই প্রতিফলন। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সরকারের উন্নয়ন দর্শনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। কমিউনিটি-ভিত্তিক পর্যটন, ইকো-ট্যুরিজম এবং অ্যাগ্রো-ট্যুরিজম বিকাশের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সেই প্রচেষ্টারই একটি অংশ, যেখানে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও পর্যটনের সফল সমন্বয় ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের উৎসব শুধু সাংস্কৃতিক পরিচিতি বাড়ায় না, বরং স্থানীয় হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পণ্য ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনারও দ্বার উন্মোচন করে।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা একটি সাংস্কৃতিক একাডেমি ভবন নির্মাণের দাবি জানালে মন্ত্রী বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে উপস্থাপনের আশ্বাস দেন।
বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত এ উৎসবে দেশের বিভিন্ন নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী তাদের জীবনধারা, ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, নৃত্য ও শিল্পকর্ম প্রদর্শন করে। বর্ণিল এ আয়োজন দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফাহমিদা আখতার। এছাড়া বক্তব্য দেন এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, হুমায়ুন কবির, নাসের রহমান এবং মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিরা।