বাসের হেলপারের আড়ালে গড়েছেন অপরাধ সাম্রাজ্য

শীর্ষ সন্ত্রাসী ইসমাইল হোসেন সজল ওরফে ‘অটো সজল’। বাসের হেলপারের আড়ালে গড়ে তুলেছেন অপরাধ সাম্রাজ্য। ঢাকার যাত্রাবাড়ী, ওয়ারী ও গেন্ডারিয়া এলাকায় তার ছত্রছায়ায় চলে ভাড়ায় আগ্নেয়াস্ত্র সরবরাহ ও মাদক সিন্ডিকেট। এসব কারণে চলাফেরায় বেশ সতর্ক থাকেন। তিন স্থরের নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে সজলের সঙ্গে দেখা করতে হয় চক্রের সদস্যদের।

গত বৃহস্পতিবার রাতে সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অটো সজলকে গ্রেপ্তার করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে স্বামীবাগের ভাড়া বাসায় অস্ত্র ও মাদক মজুদের কথা স্বীকার করেন। সেখান থেকে তার সহযোগী মো. বাপ্পী, মো. হানিফ ও শামসুন্নাহারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বাসা থেকে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড তাজা গুলি, হেরোইন, হেরোইন প্রস্তুতের উপকরণ, মাদক বিক্রির নগদ টাকা এবং চারটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র থানা থেকে পুলিশের লুট যাওয়া অস্ত্র বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

 গতকাল শুক্রবার ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ২ মার্চ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় এর আগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে অটো সজলের নাম সামনে আসে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার ওপর হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রটি সরবরাহ করেছিলেন অটো সজল। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্র সরবরাহ ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। পেশায় একটি পরিবহনের হেলপার হলেও আড়ালে তিনি এসব অপরাধমূলক কর্মকা- পরিচালনা করতেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দুটি মামলা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ওপর হামলার ঘটনার সূত্র ধরে এখন পর্যন্ত পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার অস্ত্রগুলো পুলিশের লুট হওয়া অস্ত্র কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, বিষয়টি এখনো ‘নিশ্চিত নয়’। প্রতিটি অস্ত্রের একটি নম্বর রয়েছে। পুলিশের অস্ত্র শাখায় পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই করে জানা যাবে, এগুলো কোনো থানা বা এলাকা থেকে খোয়া গিয়েছিল। তবে ৭৭ রাউন্ড গুলির মধ্যে পাঁচ রাউন্ড পুলিশের ব্যবহৃত গুলি। বাকি ৭২ রাউন্ড পুলিশের নয়। সেগুলো তারা অন্য কোনো উপায়ে সংগ্রহ করেছে বলে ধারণা করছি।

পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, সজলের নামে ১১টি মামলা রয়েছে। যার মধ্যে ৯টি মামলা গেন্ডারিয়া থানায় বাকি দুটি যাত্রাবাড়ী ও ওয়ারী থানায়। তার বিরুদ্ধে রিস্ফোরক, মাদক ও অস্ত্র আইনে এসব মামলা হয়েছে।

এ সময় ওয়ারী বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মীর মুহসীন মাসুদ রানা, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) নিয়াজ মেহেদী, ডেমরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মা. শামীম হোসেন ও যাত্রবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু উপস্থিত ছিলেন।