শূন্যরেখায় পাঁচ যুবকের মানবেতর জীবন

আপডেট : ২০ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ এএম

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ভন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ছয় দিন ধরে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বিএসএফের পুশইন চেষ্টার শিকার পাঁচ যুবক। ঝড়-বৃষ্টি, তীব্র রোদ আর অনিশ্চয়তার মধ্যে সামান্য প্লাস্টিকের ছাউনিই তাদের সম্বল। এর নিচেই তারা পার করছেন দিন-রাত। নেই পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা, নেই গোসল কিংবা ন্যূনতম স্যানিটেশন সুবিধা।

বর্তমানে গয়টাপাড়া সীমান্তে দুজন এবং ভন্দুরচর সীমান্তে তিনজন অবস্থান করছেন। তাদের ঘিরে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

জানা গেছে, গত রবিবার সকালে গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মাসহ ছয়জন এবং ভন্দুরচর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি টের পেয়ে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের জায়গা হয় দুই দেশের মাঝামাঝি শূন্যরেখার ভারতীয় অংশে।

তবে গত বুধবার সকাল থেকে দুই শিশু ও তাদের বাবা-মায়ের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, রাতের আঁধারে তাদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে কোনো তথ্য নিশ্চিত করতে পারেনি বিজিবি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে অনিশ্চয়তায় থাকা এসব মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। মানবিক দিক বিবেচনায় দ্রুত দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ও নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা জরুরি।

এ বিষয়ে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য বিএসএফের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে তাদের ফেরত নেওয়ার বিষয়ে বিএসএফ এখন পর্যন্ত কোনো আগ্রহ দেখায়নি।

এদিকে মেহেরপুর সদর উপজেলার বুড়িপোতা সীমান্তের খালপাড়া এলাকা দিয়ে চারজনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবি কঠোর অবস্থানে বিএসএফের সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার ভোরে সীমান্তের শূন্যরেখার ওপারে চারজন ব্যক্তিকে দেখতে পান স্থানীয়রা। এ সময় তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর অবস্থানে যায়। ফলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ওই ব্যক্তিরা সীমান্ত এলাকা থেকে সরে যায়।

স্থানীয়দের দাবি, পুশইনের চেষ্টা করা চারজনের মধ্যে একজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন। তবে তাদের পরিচয়, জাতীয়তা কিংবা কী কারণে তাদের সীমান্তে আনা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বিজিবি-৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক জানান, গতকাল ভোরে বৃষ্টির আগে বিএসএফ চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ফিরে গেছে। সীমান্তে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় যেকোনো ধরনের পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি বদ্ধপরিকর।

এদিকে লালমনিরহাটের পাটগ্রামেও বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে বিজিবি ও জনতা। জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত দেড়টার দিকে পাটগ্রাম সীমান্ত দিয়ে ভারতের ১৫৬ রানীনগর বিএসএফ ব্যাটালিয়নের মীররাপা ক্যাম্পের একটি টহল দল কয়েকজন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কাঁটাতারের গেট দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে।

বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবির কালীরহাট ক্যাম্পের টহল দলকে খবর দেয়। পরে বিজিবি সদস্য ও স্থানীয় গ্রামবাসী সীমান্তে অবস্থান নিলে বিএসএফ পুশইনের চেষ্টা থেকে পিছিয়ে আসে এবং ওই ব্যক্তিদের ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ৬১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের (তিস্তা-২) সহকারী পরিচালক (এডি) আব্দুর রাজ্জাক শুক্রবার  বিএসএফের এই পুশইনের চেষ্টার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত