ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সিরিজ হার বাংলাদেশের

ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হারে বাংলাদেশ। গতকাল চট্টগ্রামে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ বাঁচানোর লড়াই ছিল স্বাগতিকদের। ব্যাটিং-সহায়ক উইকেটে ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৬ ওভার পর্যন্ত ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রেখেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। কিন্তু শেষে এসে আবার তালগোল পাকিয়ে বসে। মিডল অর্ডারের ব্যাটারদের ব্যর্থতায় ৭ রানে হারের পাশাপাশি ১ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ হারও নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের।

বড় ইনিংস খেলতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে নিজেদেরই কাঠগড়ায় তোলেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার পারভেজ হোসেন, ‘এ-রকম রান তাড়া করতে হলে একটা বড় ইনিংসের প্রয়োজন পড়ে। আমরা অনেকেই ৩০-৪০ রানে আউট হয়েছি। যেকোনো একজন যদি এটা বড় ইনিংসে রূপান্তর করতে পারতাম, তাহলে সহজেই লক্ষ্য তাড়া করা যেত।’

যদিও লক্ষ্য তাড়ায় ভালো শুরু পান দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। প্রথম ৩ ওভারেই ৪২ রান তোলেন দুজন। তবে চতুর্থ ওভারে ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হন তানজিদ। ৪৮ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর সৌম্য সরকার (১৫) সুবিধা করতে পারেননি। তৃতীয় উইকেটে পারভেজকে নিয়ে হাল ধরেন সাইফ। পরে পারভেজ ২২ বলে ৩৬ রান করে আউট হলে ভাঙে ৫৩ রানের জুটি। সাইফও পরের ওভারে ৩৩ বলে ৪২ রান করে থামেন। অর্থাৎ প্রথম ৪ ব্যাটারের ৩ জনই ত্রিশোর্ধ্ব রানের ইনিংস খেললেও কেউই অর্ধশতক পূর্ণ করতে পারেননি।

এর মধ্যে ৭৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন সাইফ-পারভেজ জুটি। দুজনের সামনেই সুযোগ ছিল ইনিংস বড় করার। না পারার দায় নিজেদের কাঁধেই নিলেন পারভেজ, ‘আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছিলাম। আমার মনে হয়, সবচেয়ে বড় ক্ষতি ছিল আমার আর সাইফ ভাইয়ের উইকেটটা পিঠাপিঠি পড়ায়। ওখানেই পিছিয়ে গেছি।’ তবে পরের ম্যাচে এমন ভুল যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি, ‘আমরা তো মানুষ, তাই মাঝে মাঝে ভুল হয়ে যায়। আশা করি, উনিও হয়তো পরের ইনিংসে এখান থেকে বেরিয়ে আসবেন।’

এই দুজন যখন আউট হন, তখন ১৩ ওভার ২ বলে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রান বাংলাদেশের। ৪ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪৪ রানের। কিন্তু শামীম পাটোয়ারী ৮ বলে ৭ রানের ইনিংস খেলে দলকে আরও চাপে ফেলেন। ১৭তম ওভার থেকে আসে মাত্র ২ রান এবং ১৮তম ওভারে আসে ৮ রান। শেষ ২ ওভারে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় (৩৫) চেষ্টা করলেও আব্দুর গাফফার সাকলাইনের ১১ বলে ১৩ রানের ইনিংসটি আরও পিছিয়ে দেয় দলকে। জয়ের খুব কাছে গিয়েও ১৮৯ রানে থামে বাংলাদেশের ইনিংস।

এর আগে ম্যাট রেনশর ৫২ বলে অপরাজিত ৮৯ এবং টিম ডেভিডের ২৬ বলে ৪৫ রানের সৌজন্যে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের হয়ে নাসুম সর্বাধিক ২ উইকেট নেন। সাকলাইন ১ উইকেট নিতে খরচ করেন ৫৩ রান।