বিচার বিভাগের কার্যক্রমে কোনো রাজনৈতিক চাপ নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি আরও বলেছেন, বর্তমান সরকার বিচার বিভাগকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে।
আজ শনিবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের (এসআরএফ) বার্ষিক সাধারণ সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
এটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় তিন মাসে কোনো মামলায় কারও পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করার জন্য রাজনৈতিক চাপ, প্রত্যাশা বা নির্দেশনা পাইনি।
তিনি বলেন, সরকারের প্রত্যাশা হচ্ছে সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
মামলার জট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারক সংকট, দক্ষতার ঘাটতি এবং অতীতের নানা রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বিপুলসংখ্যক মামলা অনিষ্পন্ন রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিশেষ উদ্যোগ প্রয়োজন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিল দ্রুত নিষ্পত্তি প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, দীর্ঘদিন ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে থাকা আসামিদেরও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। জনগণকে যাচাই-বাছাই করে তথ্য গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখবেন তা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করবেন না। প্রকৃত সত্য যাচাই করুন।
বক্তব্যে এটর্নি জেনারেল সুপ্রিম কোর্টের আদেশ ও নথি জালিয়াতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান। পাশাপাশি আইনজীবীদের টিকটক বা বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পেশাগত আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়েও সতর্ক করেন এটর্নি জেনারেল।
এসআরএফ'র কার্যনির্বাহী কমিটির বিদায়ী সভাপতি মাসউদুর রহমান রানার সভাপতিত্বে বার্ষিক সাধারণ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আমিনুল ইসলাম, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, বর্তমান সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রমুখ।
বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এসআরএফ'র ২০২৬- ২০২৭ বর্ষ মেয়াদের সভাপতি নির্বাচিত হন মো. দিদারুল আলম (দৈনিক ইত্তেফাক) ও সাধারণ সম্পাদক হন মেহেদী হাসান ডালিম (ঢাকা পোষ্ট)।