তীব্র তাপপ্রবাহে পুড়ছে ইউরোপ

বিশ্বজুড়ে দূষণ, নগরায়ণ, শিল্পায়ন বাড়তে থাকায় এর প্রভাব পড়ছে জলবায়ুতে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা গেছে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে। বিজ্ঞানীরা আগেই সতর্ক করে বলেছেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে এবার তীব্র ‘এল নিনো’ আঘাত হানতে পারে। ইতিমধ্যে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। এর ফলে গরমে রীতিমতো হাঁসফাঁস করছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি এবং স্পেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তাপপ্রবাহটি কেবল চরম আবহাওয়ার কারণেই তীব্র হয়নি, বরং এটি শক্তিশালী জলবায়ু পরিবর্তনের একটি প্রবণতাও প্রতিফলিত করেছে।

দ্রুতই এই তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা খুব কম। পশ্চিম ইউরোপের একাধিক দেশের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আসন্ন দিনগুলোতে তাপ কমার পরিবর্তে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাপপ্রবাহের তেজ সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে ফ্রান্সে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্কুলের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে দেশটি। দেশটির আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এই তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং সামনের দিনগুলোতে ফ্রান্সের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছো। তবে জার্মানির আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, সপ্তাহান্তে দেশটির কিছু অংশে বজ্রঝড়, শিলাবৃষ্টি এবং ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরের জুন মাসে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ গ্রীষ্মকাল দেখার সম্ভাবনা ৪০ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন এই ধরনের চরম পরিস্থিতিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে, যার ফলে তাপপ্রবাহ, খরা এবং বন্যার মতো দুর্যোগ আরও তীব্র এবং ঘন ঘন ঘটছে। বর্তমান তাপপ্রবাহটি অনেকের জন্য ইতিমধ্যেই বছরের দ্বিতীয়। ফলে ইউরোপের কয়েক কোটি বাসিন্দার জন্য গ্রীষ্মকাল শুরু হচ্ছে চরম তাপপ্রবাহের আরেকটি পর্যায় দিয়ে। ব্রিটেন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন সবাই আগামী দিনগুলোর জন্য সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়েছে। ব্রিটেনের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তা অ্যালেক্স ডিকিন এই তাপপ্রবাহের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করে এএফপিকে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আমরা তাপমাত্রার আরও বেশি চরমভাবাপন্নতা দেখছি।