দ.আফ্রিকায় এইডস তহবিলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন বন্ধ

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ১২:৪৯ এএম

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডসের বিস্তার মোকাবিলার উদ্দেশ্যে পরিচালিত কর্মসূচিগুলোতে অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত নির্যাতন ও নিপীড়ন ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। গতকাল শনিবার বিবিসি এই তথ্য জানিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এর জবাবে বলেছে, তাদের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি আত্মনির্ভরশীলতার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে আসছে।

২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি ফান্ড ফর এইডস রিলিফ (পেপফার)-এর মাধ্যমে বছরে আনুমানিক ৪০০ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করে আসছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ক্রমশ তিক্ত হয়েছে। এর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই তহবিল বন্ধের ঘোষণা এলো। ক্ষমতায় আসার অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করে অভিযোগ করেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকা সুযোগ নষ্ট করেছে এবং জাতিগতভাবে সুবিধাবঞ্চিতদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে উসকে দিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার। তাদের দাবি, বর্ণবাদ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতেই কৃষ্ণাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি চালু করা হয়েছে, কাউকে নির্যাতন করার জন্য নয়। নির্বাহী আদেশটিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা এবং ইরানের সঙ্গে এর সম্পর্কের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়। হোয়াইট হাউজ বলছে যে, এই অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আর কোনো সহায়তা প্রদান করা হবে না।

ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গ গণহত্যা চলছে, যার ফলে প্রশাসন আফ্রিকানদের জন্য একটি শরণার্থী কর্মসূচি চালু করেছে। যদিও গণহত্যার এই দাবিটি ব্যাপকভাবে ভিত্তিহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে। পেপফার তহবিল দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি কর্মসূচিতে মোট ব্যয়ের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহ করছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এখন থেকে পেপফার তহবিলের পর্যায়ক্রমিক প্রত্যাহার শুরু হবে। দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, পেপফার দেশটির এইচআইভি কর্মসূচিতে অবদান রাখলেও, জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের সরবরাহ সম্পূর্ণ আলাদাভাবে অর্থায়ন করা হতো, যার বেশিরভাগই আসত সরকার থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার সম্পর্ক মেরামতের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এক বছরেরও বেশি সময় আগে ট্রাম্প এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার মধ্যে হোয়াইট হাউজে অনুষ্ঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার প্রতিপক্ষকে শ্বেতাঙ্গদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগের বিষয়ে তীব্র প্রশ্নবাণে জর্জরিত করেছিল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র গত বছর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বের প্রধান অর্থনীতির দেশগুলোর সম্মেলন জি-২০ বয়কট করেছিল। ১৭ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি স্থাপনকারী পশ্চিম ইউরোপীয়দের বংশধর হচ্ছে এখনকার দক্ষিণ আফ্রিকানরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত