টেক্সটাইল শিল্প সুরক্ষায় নীতিগত সহায়তা দাবি

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ দেশীয় প্রাইমারি টেক্সটাইল শিল্পের টেকসই উন্নয়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি সক্ষমতা রক্ষায় চার দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। গতকাল রাজধানীর গুলশান ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএর নেতৃবৃন্দ বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন শর্ত পুনর্বহাল, প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে ১২ শতাংশ করপোরেট করহার নির্ধারণ, পিএসএফ আমদানির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার এবং নগদ সহায়তার ওপর উৎসে কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এখন সময়ের দাবি ।  

সংবাদ সম্মেলনে বিটিএমএ সরকারের কিছু ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও শিল্প রক্ষায় আরও কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক নীতি সহায়তার আহ্বান জানায়। বক্তারা বলেন, দেশীয় শিল্প রক্ষা মানে রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং শিল্পায়নের ভিত্তি শক্তিশালী করা।

সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে বিটিএমএর সাবেক পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার রাজীব হায়দার দেশের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের বর্তমান সংকট ও কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০১৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ২৩৪টি মিল বন্ধ হয়েছে, যার মধ্যে ১১৪টি স্পিনিং মিল। তিনি জানান, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি, উচ্চসুদের হার, টাকার অবমূল্যায়ন, কাঁচামালের অস্থির মূল্য এবং চলতি মূলধনের সংকটের কারণে পুরো প্রাইমারি টেক্সটাইল খাত গভীর চাপে রয়েছে। তিনি বলেন, ব্যাংক গ্যারান্টির বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজনের বাধ্যবাধকতা পুনর্বহাল না করলে দেশীয় শিল্প মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতি বিবেচনায় মূল্য সংযোজনের শর্ত বহাল রাখা অত্যন্ত জরুরি। এছাড়াও একই সাপ্লাই চেইনের অংশ হওয়া সত্ত্বেও প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে করহার ২৭ দশমিক ৫০ শতাংশ, যেখানে তৈরি পোশাক খাতে করহার ১২ শতাংশ যা বৈষম্যমূলক এবং বিনিয়োগ, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর। তিনি ২০৩০ সাল পর্যন্ত প্রাইমারি টেক্সটাইল খাতে ১০ শতাংশ করহার নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, বিটিএমএর ১ হাজার ৮৭৮টি সদস্য মিল, প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ এবং প্রায় ২৫ লাখ প্রত্যক্ষ ও প্রায় এক কোটি পরোক্ষ মানুষের জীবিকা এই খাতের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে প্রতি বছর প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।