বিশ্বকাপের হাজারতম ম্যাচে জাপান-তিউনিসিয়া

ফুটবল বিশ্বকাপ আজ স্পর্শ করতে যাচ্ছে এক অনন্য মাইলফলক। মেক্সিকোর মন্টেরের এস্টাদিও বিবিভিএ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তিউনিসিয়া ও জাপান। এই দুই দলের মাঠের লড়াইটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের ১০০০তম ম্যাচ। তবে ঐতিহাসিক এই ম্যাচের রোমাঞ্চ ছাপিয়ে দুই দলের সামনেই থাকছে বড় সমীকরণ গ্রুপ ‘এফ’ থেকে নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই আজ মাঠে নামবে তারা।

মুখোমুখি পরিসংখ্যানে এগিয়ে জাপান। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ৬ ম্যাচের ৫টিই জিতেছে এশিয়ার পরাশক্তি দলটি। ইতিহাস যেমন জাপানের পক্ষে, সাম্প্রতিক ফর্মও তেমনই আশাবাদী করে তুলছে তাদের। প্রথম ম্যাচে নেদারল্যান্ডসের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র করার আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে হাজিমে মোরিয়াসুর দল। অন্যদিকে সুইডেনের কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে চাপে আছে তিউনিসিয়া। এমনকি সেই ম্যাচের পর কোচ সাবরি লামুশিকে বরখাস্ত করে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন। ফলে নতুন কোচের অধীনে মানসিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জও আছে উত্তর আফ্রিকার দলটির সামনে।

ডালাসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে জাপান যেভাবে লড়েছে, তাতে গ্রুপ ‘এফ’ থেকে সরাসরি পরের পর্বে যাওয়ার দৌড়ে তারাই ফেভারিট। আসরের শুরুতেই বল দখল, দ্রুতগতির প্রেসিং এবং আক্রমণে বৈচিত্র্য দেখিয়েছে দলটি। সব মিলিয়ে ‘সামুরাই ব্লু’ বড় শক্তি হয়ে উঠেছে। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছেন না। তিনি বলেছেন, ‘নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে আমরা ভালো খেলেছি, কিন্তু এতে মোটেও সন্তুষ্ট নই। তিউনিসিয়ার বিপক্ষে আমাদের জিততেই হবে।’

জাপানের সবচেয়ে বড় ভরসা তাদের আক্রমণভাগ। ডাইচি কামাদা, তাকেফুসা কুবো, রিতসু দোয়ান এবং আয়াসে উয়েদাদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ যেকোনো রক্ষণকে পরীক্ষায় ফেলতে পারে। মাঝমাঠে আও তানাকা ও কাইশু সানোর জুটি দলকে ভারসাম্য এনে দিয়েছে। বিশেষ করে তানাকার পাসিং এবং খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা জাপানের আক্রমণকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

এদিকে তিউনিসিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় চিন্তার জায়গা তাদের রক্ষণভাগ। সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচে বারবার রক্ষণভাগে ভুগতে দেখা গেছে দলটিকে। যদিও অধিনায়ক এলিয়েস স্কিরি এবং হ্যানিবাল মেজব্রির মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা মাঝমাঠ নিজেদের দখলে রাখার চেষ্টা করবেন, তারপরও জাপানের গতিময় আক্রমণ সামলানো সহজ হবে না।

গ্রুপের সমীকরণও ম্যাচটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এক ম্যাচ শেষে জাপানের সংগ্রহ এক পয়েন্ট। তিউনিসিয়া এখনো কোনো পয়েন্ট পায়নি। জাপান জিতলে তাদের পয়েন্ট হবে চার, এতে শেষ বত্রিশে ওঠার পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে। তিউনিসিয়া পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিতে পারলে গ্রুপের হিসাব-নিকাশ পুরোপুরি বদলে যাবে। হারলে বিদায়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যাবে দলটি।