বাড়ছে তিস্তার পানি

উজানে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। এরই মধ্যে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এ কারণে তিস্তা নদীতে কমলা সংকেত (বিপদসীমার কাছাকাছি) জারি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। পাউবোর রংপুর বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি ও নদীপাড়ে ভাঙন পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তিস্তাপাড়ের চার জেলা নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুরে বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে ব্রহ্মপুত্র, দুধকুমার, ধরলা নদ-নদীতে আপাতত বন্যা সৃষ্টির আশঙ্কা নেই।

টেপাখাড়িবাড়ি ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, তিস্তার তলদেশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। সামান্য পানি বাড়লেই চরে ঢুকে পড়ে। বাদাম, ভুট্টা ও শাকসবজির এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। পানি আর একটু বাড়লে সব তলিয়ে যাবে। উজানের ঢলে ঘোলাপানি ও সঙ্গে কচুরিপানা ভেসে আসছে।

ডিমলার টেপাখড়িবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, তিস্তার পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে এখনো চরাঞ্চলের বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করেনি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

গতকাল শনিবার পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দায়িত্বরত সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীসমূহের পানি সমতলে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী তিন দিন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ছাড়া আগামী ৭২ ঘণ্টায় ওই নদীসমূহের পানি নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে এবং নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। অপরদিকে বাংলাদেশে তিস্তার উজানে ভারতের জলপাইগুড়ি, আলিপুরদয়ার ও ডার্জিলিং জেলায় বৃদ্ধিপাতের লাল সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এদিকে পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্টে সকাল ৬টায় তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ১০ সেন্টিমিটার, যা বিপদসীমার শূন্য দশমিক ৫ সেন্টিমিটার নিচে। অপরদিকে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে একই সময় বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেছেন, উজানের ঢলে পানি বাড়লেও তা কমতে শুরু করেছে। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খোলা রাখা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজের উজানের ৬৫ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভারতের গজলডোবা ও দোমোহনী তিস্তা নদীর পয়েন্ট। সেখানে গত শুক্রবার বেলা ১১টায় তিস্তার পানি বিপদসীমা দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এখানে বিপদসীমা ৮৫ দশমিক ৯৫। আর শনিবার দুপুর ২টায় ভারতের দোমোহনী পয়েন্টে তিস্তার পানি কমে বিপদসীমার ৮৫ দশমিক ৬৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বাংলাদেশ অংশ তিস্তা অববাহিকায় বৃষ্টিপাত না হলেও শনিবার ২৪ ঘণ্টা ভারতের তিস্তার মেখলীগঞ্জ পয়েন্টে ৮.৪ মিলিমিটার ও দোমোহনী পয়েন্টে ২৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।