বিশ্ব বাবা দিবস আজ

বাবা মানে অনেক পূর্ণতা

আপডেট : ২১ জুন ২০২৬, ০২:২২ এএম

‘বাবা মানে অনেক চাওয়া, বাবা মানে অনেক পাওয়া

বাবা মানে ছোট্ট শূন্যতা বাবা মানে অনেক পূর্ণতা’

বাবা এমনই একজন, কোনো বিপদেই সন্তানের হাত ছাড়েন না। সন্তানের জীবনে ভালোবাসা, দায়িত্ব ও অনুপ্রেরণার প্রতীক। সন্তানের শিক্ষা, নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ গঠনে বাবার অবদান অপরিসীম। জীবনের নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে পরিবারের সুখ-সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাবারা নিরলস পরিশ্রম করেন। তাই বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের পথপ্রদর্শক, বন্ধু ও অনুপ্রেরণার উৎস। বাবা স্রেফ একটি সম্পর্কের নাম নয়, তার মধ্যে জড়িয়ে আছে বিশালত্তের এক অদ্ভুত মায়াবি প্রকাশ।

আজ বিশ্ব বাবা দিবস। বাবা দিবসের ধারণাটি পশ্চিমা বিশ্বের হলেও এখন বাংলাদেশসহ প্রায় সব দেশেই উদযাপন করা হয়। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রবিবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়। বাবার প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের লক্ষ্যে দিবসটিতে থাকে নানা আয়োজন।

দিবসটি উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। কেউ বাবার সঙ্গে তোলা ছবি প্রকাশ, আবার কেউ আবেগঘন বার্তায় জানান শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি ঘিরে আলোচনা সভা, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন থাকে।

জানা যায়, বাবা দিবসকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন সনোরা স্মার্ট ডড নামে এক নারী। ১৯০৯ সালের আগে ওয়াশিংটনে বাবা দিবস বলে কোনো বিশেষ দিন ছিল না। সে সময় স্থানীয় গির্জায় মা দিবস পালনের কথা শোনেন তিনি। মা দিবস পালনের রীতি রয়েছে কিন্তু বাবা দিবস পালনের রীতি নেই জেনে ভীষণ অবাক হন ডড। সেই ভাবনা থেকেই বাবা দিবসের স্বীকৃতির জন্য সোচ্চার হন তিনি।

সনোরা স্মার্ট ডড তার বাবাকে অসম্ভব ভালোবাসতেন। মা ছিল না তার। মায়ের মৃত্যুর পর শত দুঃখ-কষ্টের মধ্যে থেকেও তাদের সাত ভাইবোনকে বড় করে তুলেছিলেন বাবা। তার এই ত্যাগ দেখে ডডের মনে হয়, মা দিবসের এত আয়োজন হলে বাবা দিবস কেন বাদ থাকবে। বাবাকে সম্মান জানানোর জন্যও একটা দিন থাকা দরকার। এক বছর চেষ্টার পর স্থানীয় কমিউনিটিগুলোতে বাবা দিবস পালন করাতে সমর্থ হন তিনি। ১৯১০ সালের ১৯ জুন বিশ্বে প্রথমবারের মতো পালিত হয় বাবা দিবস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় রাখতে বাবা-সন্তানের সম্পর্ক আরও আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। সন্তানদের মানসিক বিকাশে বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং সুস্থ সামাজিক আচরণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্ব বাবা দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিক উদযাপন নয়; এটি বাবার ত্যাগ, ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধকে স্মরণ করার একটি বিশেষ উপলক্ষ। এ দিনটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সম্পর্কের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত