ব্রাজিলময় ক্যাম্পাস

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে ‘অপ্রত্যাশিত’ ড্রয়ের পর চাপের মুখে থাকা ব্রাজিল অবশেষে ফিরেছে জয়ের ধারায়। ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে সেলেসাওরা। এই দাপুটে জয়ের পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাজিল সমর্থকরাও। টিএসসি, ভিসি চত্বর, মুহসীন হল মাঠ, হলপাড়া ও শহীদুল্লাহ হল মাঠজুড়ে দেখা গেছে উচ্ছ্বাস আর উদযাপনের রঙিন দৃশ্য।

গতকাল শনিবার ভোরে ক্যাম্পাসের পাঁচটি ভেন্যুতে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করেন হাজারো শিক্ষার্থী ও ফুটবলপ্রেমী। ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ পতাকা, জার্সি ও সমর্থকদের সেøাগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। ম্যাচ শেষে জয় উদযাপনে নেচে-গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন সমর্থকরা।

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে ব্রাজিল। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে একের পর এক আক্রমণে হাইতির রক্ষণভাগকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলে পাঁচ বারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।

ব্রাজিলের হয়ে জোড়া গোল করেন মাতেউস কুনিয়া। অপর গোলটি করেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। আক্রমণভাগে কুনিয়া, ভিনিসিয়ুস ও রাফিনিয়ার সমন্বিত পারফরম্যান্সে দিশেহারা হয়ে পড়ে হাইতির রক্ষণভাগ। ম্যাচে ব্রাজিলের আরও দুইটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।

প্রতিটি গোলের সঙ্গে সঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাজিল সমর্থকরা। হলুদ জার্সি পরিহিত শিক্ষার্থীরা পতাকা হাতে আনন্দ মিছিল করেন। খেলা শেষে ‘ব্রাজিল, ব্রাজিল’ সেøাগানে মুখর হয়ে ওঠে টিএসসি ও আশপাশের এলাকা।

গত ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ড্র করে কিছুটা ব্যাকফুটে চলে গিয়েছিল ব্রাজিল। একইসঙ্গে চাপে ছিল সেলেসাও ভক্তরা। ফলে হাইতির বিপক্ষে জয় ছিল দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই জয়ের মাধ্যমে নকআউট পর্বের পথ অনেকটাই সহজ করেছে সেলেসাওরা। যদিও শেষ ষোলোর টিকিট এখনো নিশ্চিত হয়নি, তবে প্রথম ম্যাচের পর তৈরি হওয়া চাপ অনেকটাই কমেছে।

খেলা দেখতে আসা ব্রাজিল সমর্থক আল আমিন বলেন, প্রথম ম্যাচে অপ্রত্যাশিত ড্র করায় বেশ চাপে ছিলাম। অন্য দলের সমর্থকরা খুব ট্রল করত। আজকে ব্রাজিল দল সে জবাব দিয়েছে। আমরাও স্বস্তিতে আছি। অফসাইডের কারণে দুইটি গোল বাতিল না হলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত।

আরেক সমর্থক সামিয়া বলেন, নেইমার না থাকায় কিছুটা শূন্যতা অনুভূত হয়। তারপরও কুনিয়া, রাফিনিয়া ও ভিনিসিয়ুস দারুণ খেলেছেন। তাদের পারফরম্যান্সই বড় জয়ের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই ধারা বজায় থাকলে ভালো কিছু আশা করা যায়।