ক্যারিবীয় সাগরের ছোট্ট ও শান্ত এক দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও। দেশের মোট জনসংখ্যা মেরেকেটে ১ লাখ ৫৬ হাজার। অথচ এই পুঁচকে দেশেরই ১ নম্বর গোলরক্ষক এলয় রুমের ইনস্টাগ্রাম প্রোফাইলে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। ম্যাচের পর থেকে সেখানে ফলোয়ারের সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে এখন ৭ লাখ ৭৫ হাজার পার!
সহজ ভাষায়, এলয় রুমের নিজের দেশের যত মানুষ আছে, তার চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি মানুষ এখন তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে 'উঁকিঝুঁকি' মারছেন। কুরাসাও সরকারের এখন উচিত দেশের আদমশুমারি বাদ দিয়ে এলয় রুমের ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার লিস্ট গুনে দেখা!
১৫ সেভে কেল্লাফতে!
ঘটনার সূত্রপাত ২০২৬ বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ইকুয়েডরের বিরুদ্ধে ম্যাচে। ইকুয়েডরের স্ট্রাইকাররা গোল করার জন্য কুরাসাওয়ের পোস্টে একের পর এক কামান দাগছিলেন। কিন্তু গোলপোস্টের সামনে এলয় রুম সেদিন যেন গোলরক্ষক ছিলেন না, ছিলেন আস্ত এক 'চীনের প্রাচীর'! ৯০ মিনিটে একাই ঠেকিয়ে দিলেন ১৫টি নিশ্চিত গোল।
খেলা শেষে স্কোরলাইন ০-০। কুরাসাওয়ের ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ পয়েন্ট! আর রুমের এমন 'স্পাইডারম্যান' মার্কা পারফরম্যান্স দেখে চোখ ছানাবড়া পুরো ফুটবল বিশ্বের।
ম্যাচ শুরুর আগে এলয় রুম ছিলেন আর পাঁচটা সাধারণ ফুটবলারের মতোই—ফলোয়ার সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫ হাজারের আশেপাশে (যা কুরাসাওয়ের জনসংখ্যার চেয়েও কম)। কিন্তু রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর সাথে সাথেই শুরু হলো আসল খেলা।
বিশ্বের লাখ লাখ ফুটবলপ্রেমী নিজেদের ফোন হাতে নিয়ে সার্চ করা শুরু করলেন—"কে এই এলয় রুম?" ব্যস, মিনিটের মধ্যে ১ লাখ থেকে ফলোয়ার সংখ্যা পৌঁছাল ৫ লাখে, আর দেখতে দেখতে তা সাড়ে সাত লাখের কোটা ছুঁইছুঁই! রুম যদি এখন তাঁর ফলোয়ারদের বলেন, "ভাইসব, সবাই মিলে আমার দেশে বেড়াতে আসো", তাহলে কুরাসাও দ্বীপে তন্নতন্ন করে খুঁজেও পর্যটকদের ঘুমানোর জায়গা দেওয়া যাবে না!