উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ

খেলাপি দেখানো যাচ্ছে না ১ লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকার ঋণ

উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে দেশের ব্যাংক খাতের অন্তত ১ লাখ ৮২ হাজার ৪১৯ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি হিসেবে শ্রেণিকরণ করা যাচ্ছে না। ফলে বিপুল পরিমাণ অনাদায়ী ঋণ নিয়মিত ঋণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে—যা ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত ঝুঁকি ও খেলাপি ঋণের বাস্তব চিত্রকে আড়াল করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত ‘ফাইন্যান্সিয়াল স্ট্যাবিলিটি রিপোর্ট ২০২৫’-এ বলা হয়েছে, বিভিন্ন ব্যাংকের ১ হাজার ৩৭৯ জন ঋণগ্রহীতার দায়ের করা ৮৪৫টি রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় এসব ঋণ খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতারা আইনি সুরক্ষার আওতায় থেকে খেলাপির তকমা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হচ্ছেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রিট মামলার কারণে নিয়মিত হিসেবে দেখানো এসব ঋণের গ্রাহকেরা নতুন ঋণ গ্রহণ, ঋণ পুনঃতফসিল এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সুবিধাও ভোগ করছেন। অথচ তাদের বিপুল অঙ্কের ঋণ দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আদালতের স্থগিতাদেশকে অনেক ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতারা খেলাপি শ্রেণিকরণ ঠেকানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। এর ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থার প্রকৃত চিত্র প্রকাশিত হচ্ছে না এবং খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতাও প্রশ্নের মুখে পড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা এসব ঋণকে খেলাপি হিসাবে গণনা করা হলে ব্যাংক খাতের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেত। ফলে বর্তমানে প্রকাশিত খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান ব্যাংকিং খাতের প্রকৃত ঝুঁকির পুরো প্রতিফলন নয়।