পরিত্যক্ত মসজিদে পবিত্র কুরআনের স্তূপ, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ঝাউবাগানের ভেতরে একটি পরিত্যক্ত মসজিদে পবিত্র কুরআনের অসংখ্য কপি ও খণ্ড চরম অবহেলা ও অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ইসলামের এই পবিত্র গ্রন্থগুলো ধুলোবালি ও ময়লার স্তূপে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে, যা দেখে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মাঝে গভীর ক্ষোভ ও মর্মবেদনার সৃষ্টি হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বেলা ১১টায় সরেজমিনে দেখা যায়, সমুদ্র উপকূলবর্তী টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর ঝাউবাগানের নির্জন এলাকায় অবস্থিত মসজিদটি বর্তমানে সম্পূর্ণ জরাজীর্ণ। সংস্কারের অভাবে ভেতরের দেওয়াল ও মেঝের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। চারপাশ ঝাউগাছে ঘেরা এই পরিত্যক্ত কাঠামোর মেঝেতে কুরআনের পাতা ও অসংখ্য কপি যত্রতত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।

ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একসময় এই মসজিদটিতে নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় হতো। মসজিদের সাথে একটি নূরানী মক্তবও ছিল, যেখানে প্রতিদিন সকালে এলাকার শিশুরা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করতো। কিন্তু কালক্রমে এলাকাটি নির্জন হয়ে পড়া এবং নিকটবর্তী এলাকায় নতুন মসজিদ নির্মিত হওয়ায় এই পুরনো মসজিদটি পুরোপুরি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। এরপর থেকে কেউ আর এই পবিত্র কুরআনগুলোর খোঁজ রাখেনি। 

স্থানীয় মুসল্লি আবদুল জব্বার আক্ষেপ করে বলেন, পবিত্র কুরআন এভাবে ধুলোবালিতে পড়ে থাকা আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের। প্রতিদিন বহু মানুষের চোখে পড়লেও এতদিন কেউ এগুলো সসম্মানে সংরক্ষণে এগিয়ে আসেনি। আমরা দ্রুত এগুলো উদ্ধার করে নতুন কোনো মসজিদে বা পবিত্র স্থানে স্থানান্তরের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন সিকদার-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। পবিত্র কুরআনের মতো মহাসম্মানিত কিতাব এভাবে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। 

তিনি আরও বলেন, আমি আজই ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে জরাজীর্ণ ওই মসজিদ থেকে পবিত্র কুরআনের কপি ও খণ্ডগুলো সসম্মানে উদ্ধার করার ব্যবস্থা করছি। এরপর স্থানীয় ওলামায়ে কেরামদের সাথে পরামর্শ করে ধর্মীয় নিয়ম মেনে সেগুলো সংরক্ষণ বা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ওই পরিত্যক্ত মসজিদটির বিষয়েও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও ধর্মপ্রাণ জনগণ ইসলামের এই পবিত্র নিদর্শনগুলো দ্রুত সসম্মানে উদ্ধার ও সংরক্ষণের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।