কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার ৫ যুবক। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় কাতারের রাজধানী দোহা থেকে আল-শাহানিয়া শহরে কাজের উদ্দেশে যাওয়ার পথে তাদের বহনকারী প্রাইভেট ট্যাক্সি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনাকবলিত হয়। এতে ঘটনাস্থলে চালকসহ ওই ৫ প্রবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। তারা সবাই ছিলেন বন্ধু। এই ঘটনায় কানাইঘাটে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। নিহত গাড়িচালক ভারতীয় নাগরিক।
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, কানাইঘাটের ঝিঙাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আবদুন নূরের ছেলে জিবাল আহমদ (৩৫), মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন (৩৮), আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মোস্তাক আহমদ (২৭), একই গ্রামের মনা মিয়ার ছেলে জুবের আহমদ (২৮) ও দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদির আহমদ (৩৩)। নিহতদের মধ্যে জসিম উদ্দিন ছাড়া অন্য চারজন অবিবাহিত ছিলেন।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, এই ৫ প্রবাসী জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর ধরে কাতারে অবস্থান করেছিলেন। প্রতিদিনের মতো রবিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় কাজের উদ্দেশে কাতারের দোহা থেকে একটি প্রাইভেট গাড়িযোগে আল-শাহানিয়া শহরে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে আল শাহানিয়া শহরের সামাল এলাকায় তাদেরকে বহনকারী গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মূল সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই চালকসহ এবং কানাইঘাটের ওই ৫ যুবক নিহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন মরদেহগুলো উদ্ধার করে কাতারের একটি হাসপাতালের মর্গে রেখেছে।
নিহত কাদির আহমদের বাবা বাহার উদ্দিন জানান, চার বছর আগে ছেলে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরাতে কাতারে গিয়েছিল। আগামী মাসে কাদিরের দেশে ফেরার কথা ছিল। এ কথা বলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিহত জসিম উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনা বেগম জানান, ৩ বছর আগে তার স্বামী কাজের উদ্দেশ্যে কাতার যান। তার আয়-রোজগারের ওপর পরিবার নির্ভরশীল ছিল। এখন দুই শিশু সন্তান নিয়ে কীভাবে বাঁচবেন, এ চিন্তায় আহাজারি করছেন। নিহতদের লাশ সরকারি খরচে দেশে ফিরিয়ে আনাসহ সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা ।
এদিকে সড়ক দুর্ঘটনায় পাঁচ জন বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। গতকাল রোববার এক শোকবার্তায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা আমাদের এই রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের এমন আকস্মিক ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। আমি নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। প্রতিমন্ত্রী জানান, নিহতদের মরদেহ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে কাতার দূতাবাসের শ্রম উইংকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাকচাপায় ব্যবসায়ী নিহত : যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ট্রাকচাপায় এক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গত শনিবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে দাঁড়ানো ছিলেন কবির হোসেন। এ সময় বেপরোয়া গতির একটি ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। কবির হোসেন মৃধা (৫৫) বরিশালের উজিরপুরে দক্ষিণ মোড়াকাঠী গ্রামের মৃত মেছের উদ্দিন মৃধার ছোট ছেলে এবং শিকারপুর শেরে বাংলা কলেজের সাবেক ছাত্রদল নেতা।
গতকাল রবিবার দুপুরে কবির হোসেনের নিকটাত্মীয় হেমায়েত হাওলাদার নিহতের স্ত্রী রুমা আক্তারের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে ডিভি লটারির মাধ্যমে কবির হোসেন আমেরিকায় যান। ৯ ভাইবোনের মধ্যে কবির হোসেন ছিলেন ছোট। কবির হোসেনের স্ত্রী ও এক ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। কবির হোসেন ফ্লোরিডায় ব্যবসা করতেন। মরহুমের ইচ্ছানুযায়ী গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বাবা ও মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে। তার লাশ দেশে আনার প্রস্তুতি চলছে।