ছুটি বাতিল করে বিশ্বকাপে মিশরের ‘ত্রাতা’ জিকো

মিশরের উত্তর উপকূলে গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটানোর সমস্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন মোস্তফা ‘জিকো’ মোহাম্মদ। কিন্তু হুট করেই জাতীয় দল থেকে আসা একটি আকস্মিক ফোন কল তার পুরো পরিকল্পনা ও জীবনকে বদলে দেয়।

রবিবার রাতে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয়ে এক গোল ও অন্য একটি গোলে এসিস্ট করার পর পিরামিডস এফসির এই ফরোয়ার্ড সাংবাদিকদের বলেন, "আমি জাতীয় দল থেকে বেশ দূরেই ছিলাম এবং সত্যি বলতে, এই ডাক পাওয়ার কোনো আশাই করিনি। কোচ হোসাম হাসান আমাকে উত্তর উপকূল থেকে ডেকে এনেছেন। আমি যখন ছুটিতে যাওয়ার জন্য একদম প্রস্তুত, ঠিক তখনই নিজেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে আবিষ্কার করলাম।"

চলতি বিশ্বকাপের আগে দলে একজন ‘ফ্রিঞ্জ প্লেয়ার’ বা অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে স্কোয়াডে থাকা জিকো এখন খুব দ্রুতই মিশরের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে মেলে ধরছেন।

ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি জিকোর নামানুসারে তার এই নাম রাখা হয়। মিশরীয় ফুটবলে আন্তর্জাতিক তারকাদের নামে খেলোয়াড়দের নামকরণ করার যে দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে, মোস্তফা জিকো তারই অংশ। মাঠের দুই প্রান্তের উইং বা সেন্টার ফরোয়ার্ড—যেকোনো পজিশনেই খেলতে পারদর্শী এই আক্রমণভাগের খেলোয়াড় কোচের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন দারুণভাবে।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচে রাশিয়া ও ব্রাজিলের বিরুদ্ধে গোল করার পর ভ্যানকুভারে নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধেও তিনি নিজের গোল খাতা খোলেন। শুধু গোল করাই নয়, ডি-বক্সের ভেতর দারুণ এক ব্যাক-হিল পাসে মোহাম্মদ সালাহকে দিয়ে গোল করিয়ে দলের জয় সুনিশ্চিত করেন জিকো।

নিউ জিল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই জয়টি বিশ্বকাপে মিশরের ইতিহাসেই প্রথম জয়। এই ঐতিহাসিক জয়ের ফলে ‘জি’ গ্রুপে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে তারা। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আগামী শুক্রবার শেষ গ্রুপ ম্যাচে ইরানের মুখোমুখি হবে ফারাওরা।

কোচ হোসাম হাসানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জিকো বলেন, "প্রথম মিনিট থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত হোসাম হাসান আমাদের ওপর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রেখেছেন। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে আমি তাকে একটি সেকেন্ডের জন্যও হতাশ করিনি।"

তবে মিশরের এমন দুর্দান্ত শুরুর পরেও দলের কেউই এখনই আত্মহারা হতে রাজি নন। জিকো যোগ করেন, "আমরা এখনো চূড়ান্ত কিছু অর্জন করতে পারিনি। আশা করি আমরা আরও অনেক দূর যেতে পারব। আমরা আফ্রিকার সবচেয়ে শক্তিশালী দল। তাহলে এই টুর্নামেন্টে আমাদের যত দূর সম্ভব এগিয়ে না যাওয়ার কোনো কারণ তো আমি দেখছি না!"