ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক চান্দুরা-আখাউড়া সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রায় ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি বিজয়নগর উপজেলাকে আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত করেছে।
পাশাপাশি চান্দুরা ডাকবাংলো এলাকায় এটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ছোট-বড় হাজারো যানবাহনে যাত্রী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগীবাহী যান চলাচল করে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক বছর ধরে সড়কটির বিভিন্ন অংশে বড় বড় গর্ত, খানাখন্দ ও ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে সিঙ্গারবিল বাজার থেকে চম্পকনগর বাজার পর্যন্ত অংশটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। ফলে গর্তগুলো পানির নিচে তলিয়ে থাকায় সেগুলোর গভীরতা বোঝা যায় না এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
এদিকে সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের সিঙ্গারবিল বাজার, হাটখোলা, খিরাতলা ও শ্রীপুর এলাকায় সড়কের মাঝখানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রায়ই মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে আহত হচ্ছেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিভিন্ন যানবাহন।
সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিম্নমানের কাজের কারণে সড়কটির অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। গত পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে সড়কটির দুরবস্থা চললেও স্থায়ী সমাধানের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাদের ভাষ্য, প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং বহু মানুষ আহত হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, সড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে এবং যাতায়াতে সময়ও প্রায় দ্বিগুণ লাগছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত সড়কটির সংস্কার কাজ সম্পন্ন করে জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সড়কটির বর্তমান অবস্থা শুধু ভোগান্তির কারণ নয়, জননিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আশিকুর রহমান ভূঞা জানান, চান্দুরা থেকে সিঙ্গারবিল পর্যন্ত সড়কটি দুটি অংশে বিভক্ত। মির্জাপুর মোড় থেকে চম্পকনগর ইউনিয়ন পরিষদের উত্তর পাশ পর্যন্ত অংশের উন্নয়নকাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় চারটি পৃথক টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে একটি টেন্ডারের কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি তিনটির কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চম্পকনগর বাজার থেকে সিঙ্গারবিল বাজার পর্যন্ত অংশের উন্নয়নকাজের এখনও অনুমোদন পাওয়া যায়নি। তবে আগামী আগস্ট মাসে এ অংশের জন্য প্রাক্কলন (এস্টিমেট) জমা দেওয়া হবে। অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে পরবর্তীতে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।