পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের বাদুরতলী এলাকার মো. আনিসুর রহমান নামে এক মুদী ব্যবসায়ীর দোকান এবং বাসায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তার স্ত্রীসহ তিনজন আহত হয়েছেন। রবিবার (২১ জুন) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহতরা হলেন- ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম সরদার (৫৫), মুদী ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান (৫২) এবং তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার (৪৬)।
এ সময় মুদি ব্যবসায়ীর দোকানের ক্যাশ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লাগোয়া তার বাসায় হামলা চালিয়ে একটি স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সন্ত্রাসীদের হামলায় মুদী ব্যবসায়ীর বাসার আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সন্ত্রাসী এ হামলার সঙ্গে কলাপাড়া পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক মো. নাইম এবং সরকারি মোজাহার উদ্দিন বিশ্বাস কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেনসহ ২০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী জড়িত বলে এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান।
মুদি ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান জানান, তিনি তার দোকানে বসা ছিলেন। হঠাৎ ১৫-২০ জনের একদল সন্ত্রাসী যুবক এবং ছাত্ররা ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আবুল কালাম সরদারকে ধাওয়া দিলে তিনি দৌড়ে ব্যবসায়ী আনিসুর রহমানের মুদি দোকানে ঢুকে যায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা কালাম সরদারকে মারধর করে। কালাম সরদারকে রক্ষা করতে গেলে সন্ত্রাসীরা আনিসুর রহমানকেও মারধর করেন। এক পর্যায়ে কালাম সরদার দৌড়ে আনিসুর রহমানের ঘরে গিয়ে আশ্রয় নেয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আনিসুর রহমানের বাসার দরজা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে কালাম সরদারকে রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। আনিসুর রহমানের স্ত্রী রোকসানা আক্তার কালাম সরদারকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে তাকেও মারধর করা হয়।
রোকসানা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, আমি ঘরে বসে নাতিকে ভাত খাওয়াইতে ছিলাম। হঠাৎ আমার ঘরের দরজা ভেঙে ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী রড, লাঠিসোটা নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ে। এতে আমি ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ি। ওই সকল সন্ত্রাসীরা আমার ঘরে আশ্রয় নেওয়া সাবেক কাউন্সিলর কালাম সরদারকে মারধর করে জখম করেছে। আমি তাকে রক্ষা করতে গেলে আমার ওপরও হামলা চালানো হয়। এক পর্যায়ে সন্ত্রাসীদের একজন আমার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনতাই করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা আমার ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
মুদী ব্যবসায়ী আনিসুর রহমান বলেন, 'আমি বিএনপির ওলামাদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। কোনদিন কোনো সুযোগ গ্রহণ করিনি। অথচ আজ নিজের দলের ছেলেদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হলাম।'
কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি কাজী ইয়াদুল ইসলাম বলেন, 'খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। ভাঙচুর এবং ক্ষয়ক্ষতির আলামত পেয়েছি। স্বর্ণের চেইন এবং দোকানের ক্যাশ থেকে টাকা নিয়েছে কীনা তা আমি যাচাই করে দেখছি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের অবশ্যই দলীয় শাস্তি পেতে হবে।'
কলাপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইলিয়াস তালুকদার বলেন, অসুস্থ নারী সদস্যকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।