আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ৯ নম্বর শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম আর মুজিবের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার ও মিথ্যা অভিযোগ তোলার অভিযোগ উঠেছে।
ইউপি চেয়ারম্যান এম আর মুজিব উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক এবং জেলা যুবদলের গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক। বর্তমানে শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিনি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছেন।
মাঠপর্যায়ে খোঁজ নিয়ে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে। তবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী লীগের দোসররা কৌশলে ইউপি সদস্যদের বিভ্রান্ত করে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ দাঁড় করিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে আগামী নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও তিনি ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন। তার এই জনপ্রিয়তাই একটি মহলের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, ভূমি উন্নয়ন করের ১ শতাংশ অর্থ থেকে ইউপি সদস্যরা সম্মানী ভাতা দাবি করেছিলেন। কিন্তু সরকারি বিধান অনুযায়ী এ অর্থ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ব্যয় করতে হয়; বেতন-ভাতা প্রদান করা বিধিবহির্ভূত। ওই অর্থ দিয়েই ইতোমধ্যে শিবপুর ইউনিয়নে কয়েকটি দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রকৌশলীর সমন্বয়ে যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের সুযোগ রয়েছে। সেই নিয়ম অনুসরণ করেই চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে নিম্নোক্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে— কনিকাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশ থেকে গ্রামের কবরস্থান পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার, বাঘাউড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণ, কনিকাড়া হাজী হাবিবুর রহমানের পুকুরঘাটে গণঘাটলা নির্মাণ, কনিকাড়া শিবপুর-রাধিকা সড়ক থেকে জামাল মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত সিসি ঢালাই, কনিকাড়া মুজিব চেয়ারম্যান বাড়ির রাস্তা উঁচুকরণ ও সিসি ঢালাই এবং কনিকাড়া দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মসজিদ পর্যন্ত রাস্তার আরসিসি উন্নয়নকাজ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এসব কাজের ফলে তাদের যাতায়াত অনেক সহজ হয়েছে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষও উপকৃত হচ্ছেন।
১ শতাংশ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর সমন্বয়ে উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করায় ইউপি সদস্যদের সম্মানী ভাতা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। এ কারণে সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। সেই ক্ষোভকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে একটি মহল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও মিথ্যা অভিযোগ উত্থাপনে প্ররোচনা দিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে কয়েকজন ইউপি সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘১ শতাংশ অর্থ যে বেতন-ভাতার জন্য ব্যবহার করা যায় না, সেটি আমরা আগে জানতাম না। ইউএনও ও প্রকৌশলীর সমন্বয়ে উন্নয়নকাজে এ অর্থ ব্যয় হয়েছে, সেটিও আমাদের জানানো হয়নি। এখন বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। আমাদের অনাস্থা প্রস্তাব ও অভিযোগ দেওয়া ভুল ছিল। আমরা তা প্রত্যাহার করতে চাই।’
অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান এম আর মুজিব বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর। ১ শতাংশ ভূমি উন্নয়ন করের অর্থ ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলীর সমন্বয়ে সম্পূর্ণ নিয়ম মেনে উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করা হয়েছে। কাজগুলো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান। প্রতিটি প্রকল্পের কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষিত আছে। যে কেউ চাইলে তা যাচাই করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি অতীতে সরকারদলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচন করে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে মাঠে কাজ করে দলীয় প্রার্থীকে বিজয়ী করতে ভূমিকা রেখেছি। আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে। এরই অংশ হিসেবে সদস্যদের ভুল বুঝিয়ে আমার বিরুদ্ধে অনাস্থা ও মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।’
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ১ শতাংশ অর্থের ব্যয় ও বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন যেকোনো সময় তদন্ত ও যাচাই-বাছাই করতে পারে। তদন্তে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে বলে মনে করছেন শিবপুর ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ। স্থানীয়দের আশা, অচিরেই সত্য প্রকাশিত হবে এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে জড়িতদের মুখোশ উন্মোচিত হবে।