সমুদ্র পানিতে তারার মেলা দেখা বিস্ময়ের। শুধু মেলা নয়, রীতিমতো লাইটের মতো জ্বলতে থাকে তারা। এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় মালদ্বীপে। মহলদ্বীপ থেকে মালদ্বীপের কথাটি এসেছে বলে মনে করেন অনেকে। ২৬টি লেগুন বা প্রবাল দ্বীপের সমষ্টি হলো মালদ্বীপ। সমুদ্রের বুকে প্রবাল দ্বীপ মানে, অপূর্ব সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সমষ্টি। পানির স্রোত বা ঢেউয়ের আঘাতে এদের শরীরে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। তখন সমুদ্র সৈকত নীল রঙের জোনাকির মতো জ্বলতে থাকে। ছুটি কাটাতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের গন্তব্য হয় মালদ্বীপ। আকাশে অন্ধকার নামলেই তারারা যেন নেমে আসে মালদ্বীপের সমুদ্রে। ঢেউয়ের কোলে উঠে ছুটে এসে তারারা জড়িয়ে ধরে পা। তারা ঘুরে পায়ে পায়ে। ভাসমান জীবাণু বা প্লাঙ্কটন থেকে ছড়ায় নীল আলো। বিজ্ঞানীরা বলছেন মালদ্বীপের ‘ভাধু’ দ্বীপে রাতের বেলা সমুদ্রের পানিতে বায়োলুমিনেসেন্স বা জলজ প্লাঙ্কটনের কারণে তৈরি হয়, ‘তারার মেলা’ বা জ্বলজ্বলে আলোর বিস্ময়কর দৃশ্য। অমাবস্যার অন্ধকারে চারপাশ যখন সবচেয়ে বেশি অন্ধকারে ছেয়ে যায়, তখন নীল আলোর দ্যুতি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে চোখে পড়ে। এসব ফাইটোপ্লাঙ্কটনে রয়েছে ‘লুসিফেরাস’ নামের রাসায়নিক উপাদান, যা আলো সৃষ্টি করে। যাকে বলা হয়, অ্যাটোল। আছে ১১৯২টি ছোট ছোট দ্বীপ। এগুলোর মধ্যে মাত্র ২০০ দ্বীপে মানুসের বসতি আছে। বাকিগুলো বাসযোগ্য নয়। সব দ্বীপে রয়েছে ছোট ছোট সৈকত। পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলছেন, যদি কার্বন নিঃসরণের ধারা অব্যাহত থাকে, তবে ২১০০ সালের শেষের দিকে মালদ্বীপ সমুদ্রের অতল গহ্বরে বিলীন হয়ে যেতে পারে।