সেঁজুতির মরদেহ উপজেলার পুকুরে, মারজিয়ার ডোবায়

নারায়ণগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা দুই দিন ধরে নিখোঁজ ছিল। পরিবারের দাবি তাদের হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইলের সখীপুরে উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে সেঁজুতির (৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে পৌর এলাকার মন্দিরপাড়া এলাকার ফালু চন্দ্র ও সুভা চন্দ্রের কন্যা এবং আদর্শ শিশু কানন প্রি-ক্যাডেট স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। আর নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মারজিয়া নামে দেড় বছরের এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়নের ইদবারদী এলাকার মাইদুলের কন্যা।

মারজিয়ার বাবা-মা জানান, মারজিয়া গত শনিবার বিকেলে বাড়ির আঙিনায় খেলা করছিল। হঠাৎ তাকে আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে একপার্যায়ে তারা হাল ছেড়ে দেন। পরে সোমবার সকাল ৯টায় প্রতিবেশীরা বাড়ির পাশের ডোবায় শিশুটির ভাসমান লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে সংবাদ দেয়। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। পরিবারের অভিযোগ, মারজিয়াকে কেউ হত্যা করেছে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শিশুটির লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। আড়াইহাজার থানার ওসি মো. সবজেল হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেঁজুতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল ৪টার পর থেকে সেঁজুতি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিহত সেঁজুতির পরিবার শনিবার রাতেই সখীপুর থানায় জিডি করে।

পরিবারের অভিযোগ, রবিববার রাতে তাদের কাছে একটি ফোনকল এবং মেসেজ আসে যেখানে সেঁজুতিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। সোমবার সকালে স্থানীয়রা উপজেলা পরিষদ পুকুরে একটি শিশুর মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেয়। সেঁজুতির বাবা ফালু চন্দ্র মালু বলেন, আমার মেয়েটিকে মেরে পুকুরে ফেলে রাখা হয়েছে। আমি মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান এমপি সেঁজুুতির মা-বাবার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন। সেঁজুতি হত্যাকা-ের শিকার হয়ে থাকলে তদন্ত করে দ্রুত দোষীদের বিচারের আওতায় আনার আশ্বাস দেন তিনি।

সখীপুর থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, নিখোঁজের দুই দিন পর সোমবার সকালে সখীপুর উপজেলা পরিষদ পুকুর থেকে সেঁজুতির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।