পদ্মা-মেঘনায় ইলিশের দেখা না পেয়ে জেলেদের হাহাকার

আকাশছোঁয়া দামে ক্রেতা বিমুখ হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বড় ইলিশের পাইকারি বাজার চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাট। ক্রেতা সংকটে দাম কিছুটা কমলেও এখনো সাধারণের নাগালের বাইরে ইলিশ।

মৌসুমেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা নেই জেলেদের জালে। ইলিশের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ইলিশের পাইকারি বাজারের কার্যক্রম নেমে এসেছে ঘণ্টায়!

সম্প্রতি ক্রেতা সংকটে মাছের দাম কেজিতে ৪শ’-৫শ’ টাকা কমলেও বাড়েনি ক্রেতার সংখ্যা। বাজারে ক্রেতার চেয়ে বিক্রেতার সংখ্যাই বেশি।

ইলিশ ব্যবসায়ী মো. সাইফুল বলেন, মাছের সরবরাহ আগের মত কম থাকলেও ক্রেতা সংকটে কেজিতে ৪শ’-৫শ’ টাকা দাম কমেছে। তবুও ক্রেতার আনাগোনা কম।

আরেক ব্যবসায়ী নবির হোসেন বলেন, ইলিশের মৌসুম শুরু হলেও ঘাটে মাছের আমদানি কম। দাম বেশি থাকায় ক্রেতা কম। মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া ইলিশ কিনে না। 

মাছ বাজারে আসা ক্রেতা আবুল কালাম বলেন, ইলিশের যে দাম তাতে কেনার উপায় নেই। মাছ ধরলেই ২ হাজার টাকার উপরে, বড়গুলোর দামতো ৩ হাজারের উপরে। পর্যাপ্ত মাছ না পাওয়ায় সংকট কাটছে না মেঘনায় মাছ শিকার করতে যাওয়া জেলেদেরও। ঘণ্টার পর ঘণ্টা জাল টেনেও মিলছে না ইলিশ। এদিকে বেড়েছে জ্বালানি তেলসহ আনুষঙ্গিক খরচ। পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবেন সেই চিন্তা তাদের।

তাদেরই একজন চাঁদপুর সদর উপজেলার হরিনা এলাকার জেলে নজরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে ৬ ঘণ্টার পরিশ্রমে ২ বার জাল টেনে মাছ পেয়েছি প্রায় ১ হাজার টাকার। অথচ জ্বালানীসহ আনুষঙ্গিক খচর হয়েছে প্রায় ৭ হাজার টাকা। সংসার আর ছেলে-মেয়ের লেখাপড়ার খরচ মেটাবে কিভাবে ভেবে কূলকিনারা পাই না।

একদিকে মেঘনা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ সংকট। অপর দিকে উপকূলীয় অঞ্চলের ইলিশের সরবরাহও কমেছে। ফলে জৌলুস হারিয়েছে বাজারটি। যেখানে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিলামে আড়ৎদার আর পাইকারের হাঁকডাকে মুখরিত থাকত বড় স্টেশন মাছঘাটটি। মাছের সরবরাহ কমায় থেমেছে সেই কোলাহল।

জেলা মৎস্য বণিক সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল বারি জমাদার বলেন, এক সময় দিনরাত কাজ করেও সময় পেতাম না। এখন সেই পাইকারি বাজার শেষ হচ্ছে দেড় দুই ঘণ্টায়। ক্রমেই রূপান্তরিত হচ্ছে খুচরা বাজারে। এতে কোটি কোটি টাকা চালান খাটানো আড়ৎদারদের ব্যবসায় বিলুপ্তির পথে।

তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ইলিশের প্রাচুর্যতা কমায় দাম কিছুটা বেশি। তাই বাজারে ক্রেতা সংখ্যা কম। তবে সহসায় বৃষ্টিপাত হলে নদীতে ইলিশ বেশি পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।

বর্তমানে বাজারে ১ কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ২৫০০-২৬০০ টাকা দরে। তাছাড়া ৭শ’-৮শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৯০০-২২০০ টাকায়, এবং ৪শ’-৫শ’ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ১৪শ’-১৮শ’ টাকা দরে।