ঘুরে দাঁড়িয়ে আলজেরিয়ার জয়, গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা

সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে প্রত্যাবর্তনের দারুণ গল্প লিখে জর্ডানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আলজেরিয়া। আর এই এক জয়েই নিমিষে মেলবন্ধন ঘটে গেল ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ জে-এর চূড়ান্ত ভাগ্যের। গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই দাপটের সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়নের মুকুট নিশ্চিত করে ফেলল আর্জেন্টিনা।

একই দিনের আরেক ম্যাচে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারানো আর্জেন্টিনার পয়েন্ট এখন ৬, যেখানে বাকি দুই দল অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার পয়েন্ট সমান ৩। শেষ ম্যাচে যেকোনো সমীকরণেই এখন আলবিসেলেস্তেদের শীর্ষস্থান ভাঙা অসম্ভব। তবে আলজেরিয়ার এই প্রত্যাবর্তন জর্ডানের জন্য রূপ নিয়েছে চরম এক ট্র্যাজেডিতে; টানা দুই হারে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বিশ্বমঞ্চ থেকে বিদায় নিতে হলো টুর্নামেন্টের নবাগত দলটিকে। 

ম্যাচের প্রথমার্ধের গল্পটা অবশ্য আলজেরিয়ার জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়া অভিজ্ঞ রিয়াদ মাহরেজকে এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ফিরিয়েছিলেন কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ। সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি তারকা শুরুতে বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও জর্ডানের জমাট ও কাউন্টার-অ্যাটাকিং ফুটবলের সামনে তা আলো ছড়াতে পারেনি। উল্টো ৩৬ মিনিটে আলজেরিয়ান মিডফিল্ডার রামিস জেরুকির এক মারাত্মক ডিফেন্সিভ ভুলের সুযোগ নিয়ে জর্ডানকে লিড এনে দেন নিজার আল-রেশদান।

১-০ গোলে পিছিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়া আলজেরিয়া দ্বিতীয়ার্ধে সম্পূর্ণ ভিন্ন রণকৌশল নিয়ে মাঠে নামে। পেতকোভিচ মাঠে নামান নাবিল বেনতালেব ও নাধির বেনবুয়ালিকে, যা ম্যাচের পুরো চিত্রনাট্য বদলে দেয়। ৬৯ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের এক নিখুঁত কর্নার কিক থেকে জর্ডানের ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে এক দুর্দান্ত হেডে আলজেরিয়াকে সমতায় ফেরান বদলি স্ট্রাইকার বেনবুয়ালি।
ভিএআর-এর দীর্ঘ পরীক্ষা শেষে গোলটি বৈধ ঘোষিত হলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আলজেরিয়ান শিবির।

সমতায় ফিরে আলজেরিয়ার আক্রমণের ধার আরও বেড়ে যায়। ম্যাচের ৮২ মিনিটে আবারও সেট পিসের জাদু; বদলি খেলোয়াড় আনিস হাদজ মুসার কর্নার কিক জর্ডানের গোলরক্ষক ও ডিফেন্ডারদের জটলায় বাধা পেয়ে ডিফ্লেক্টেড হলে খুব কাছ থেকে নিখুঁত টোকা দিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন আমিন গুইরি। ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বসিত গুইরি বলেন, “আমরা আমাদের আসল রূপ দেখাতে পেরেছি কি না জানি না, তবে আর্জেন্টিনার ম্যাচের চেয়ে অনেক ভালো খেলেছি। গোল খাওয়ার পরও আমাদের মানসিক দৃঢ়তা ছিল অসাধারণ।” 

বিদায়ের বেদনায় জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবু লায়লা মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে দলের এমন হৃদয়বিদারক বিদায়ের পর ডাগআউটে দাঁড়িয়ে জর্ডানের মরক্কোন কোচ জামাল সেলামি খেলোয়াড়দের অনভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “আলজেরিয়া দল কিছু পরিবর্তন (সাবস্টিটিউশন) করেছিল যা মূলত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। ওদের একজন খুব লম্বা আক্রমণভাগের খেলোয়াড় ছিল... আমার মনে হয় আমাদের অভিজ্ঞতার অভাবের কারণেই ওরা দুটি কর্নার কিক থেকে গোল করতে পেরেছে, ঠিক যখন আমরা নিজেরা কুলিং ব্রেকের সময় খেলোয়াড় পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।”

এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থাকা অস্ট্রিয়ার সমান অবস্থানে চলে এলো আলজেরিয়া। আগামী শনিবার কানসাস সিটিতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আলজেরিয়ার ম্যাচটি রূপ নিতে যাচ্ছে ৪৪ বছর আগের এক ঐতিহাসিক প্রতিশোধের মঞ্চে। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে অস্ট্রিয়া ও পশ্চিম জার্মানির বিতর্কিত 'ডিসগ্রেস অব গিজোন' ম্যাচের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে। অন্য দিকে, বিদায় নিশ্চিত হলেও জর্ডানের সামনে শেষ ম্যাচে সুযোগ থাকছে ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের একটি স্মরণীয় দাগ রেখে যাওয়ার।