বিশ্বজুড়ে ক্লাব ফুটবলের জৌলুসপূর্ণ পরিবেশ কিংবা বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধার কথা তো সবাই জানে। কিন্তু এর সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে দাঁড়িয়ে সম্পূর্ণ এক ব্যতিক্রমী ও রোমহর্ষক রুটিন তৈরি করেছে আর্জেন্টিনার ক্লাব দেপোর্তিভো রিয়েস্ত্রিয়া। বুয়েনস আইরেসের নুয়েভা পম্পেইয়া পাড়ার এই ক্লাবটি ফুটবলে টিকে থাকতে এবং নিজেদের পরিচিতি বাড়াতে বেছে নিয়েছে এমন এক চরম কঠোর পথ, যাকে বিশ্বের ‘সবচেয়ে কঠিন ট্রেনিং ক্যাম্প’ বললেও কম হয়ে যাবে।
যেখানে খেলোয়াড়দের সকাল শুরু হয় কনকনে শীতে, তীব্র বালুচরে, ভোর তিনটার অ্যালার্মে ঘুম ভেঙে!
ইতালীয় ক্রীড়া দৈনিক গেজেত্তা দেল্লা স্পোর্তোর এক বিশেষ প্রতিবেদনের সূত্রমতে, আর্জেন্টিনার প্রথম সারির লিগের এই ক্লাবটিতে নতুন কোনো খেলোয়াড়কে ভেড়ানোর আগে সবার আগে যে প্রশ্নটি করা হয়, তা হলো, ‘তুমি কি ভোর তিনটায় ঘুম থেকে উঠে ট্রেনিং করতে রাজি আছো?’ উত্তর 'না' হলে সেই ট্রান্সফার ফাইল সেখানেই বন্ধ।
বুয়েনস আইরেসের পিনামার সমুদ্রসৈকতে শীতের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় যখন তাপমাত্রা শূন্যের নিচে নেমে যায়, তখন শুরু হয় কোচ গিলের্মো দুরোর এই ‘মিলিটারি ড্রিল’।
কী নেই তাদের প্রতিদিনের এই রোমহর্ষক রুটিনে? দিন শুরু হয় ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভোর ৩টা ২০ মিনিটে সৈকতে জমায়েতের মাধ্যমে। এরপর চলে প্রথম দফার ফুটবল প্র্যাকটিস। ভোর সাড়ে চারটায় ছোট্ট বিরতি ও হাইড্রেশনের পর সকাল সাতটায় জিম সেশন, এরপর সকালের নাস্তা ও বিরতি। দুপুরের খাবার এক টেবিলে সারার পর দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে সামান্য বিশ্রাম, বিকেলে আবার ৫০ মিনিটের সৈকত সেশন, সাঁতার এবং সবশেষে রাত সাড়ে নয়টায় ঘুমাতে যাওয়ার নির্দেশ।
সবমিলিয়ে দিনে প্রায় ১৩ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই কঠিন কসরত, যার মধ্যে অন্তত ৫ ঘণ্টাই থাকে ঘাম ঝরানোর ট্রেনিং। হলিউড অভিনেতা মার্ক ওয়ালবার্গের কড়া জীবনযাত্রার সঙ্গেও মিলে যায় দেপোর্তিভো রিয়েস্ত্রিয়ার এই রুটিন।
তবে এই চরম কষ্ট কেবল ফিটনেস বাড়ানোর জন্যই নয়, এটি ক্লাবটির এক দারুণ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজিও বটে। প্রেসিডেন্ট ফাবিও পিরোলোর এই ক্লাবটি তাদের এক্সট্রিম ট্রেনিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে রীতিমতো তাক লাগিয়ে দিয়েছে বিশ্বকে। সৈকতে সাধারণ সমর্থকদের সঙ্গে দৌড়ানোর দৃশ্যগুলো মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।
ইউরোপীয় ক্লাব সংস্কৃতির হাজার মাইলের দূরে থেকেও ‘লস মালেরোস’ খ্যাত এই ক্লাবটি প্রমাণ করেছে, ডিসিপ্লিন আর কঠোর পরিশ্রমই তাদের বড় অস্ত্র, যার ফল তারা পাচ্ছে মাঠে বড় দলগুলোকে হারিয়ে।
