নাহিদ ইসলামের হুঁশিয়ারি

বিচার নিশ্চিত না করলে মেয়াদ শেষ করতে পারবে না সরকার

জুলাই হত্যাকাণ্ড ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিসহ বিভিন্ন আলোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে এই সরকার কোনোভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, পিলখানা হত্যাকাণ্ডসহ সকল গুম-খুন এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে। বিচার যদি নিশ্চিত না করা হয়, এই সরকার কোনোভাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করতে পারবে না। আমরা জান দিব, কিন্তু জুলাই দেব না, জুলাই বিজয় হবে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে ‘আওয়ামী ফ্যাসিস্ট কর্তৃক সংঘটিত সকল গুম খুন ও গণহত্যার বিচার দাবি’তে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে’ মন্তব্য করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি ফ্যাসিস্ট, গণহত্যাকারী এবং সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিরোধী সংগঠন, যারা আশ্রয় হয়েছে দিল্লিতে। 

কারণ আওয়ামী লীগের শিকড় রয়েছে দিল্লিতে, আওয়ামী লীগ একটি ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে—প্রকৃতপক্ষে এটি একটি ভারতীয় পার্টিই ছিল। আওয়ামী লীগের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ বাংলাদেশে ৫ আগস্টে সমাপ্ত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এই সমাবেশে আমরা জড় হয়েছি বিচারের দাবিতে, এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক। আমাদের জন্য হতাশার যে গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায় আমাদেরকে বিচারের দাবি দিয়ে আজও রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিগত ১৬-১৭ বছরে অসংখ্য গুম, খুন, গণহত্যা চালিয়েছে এদেশের সাধারণ মানুষ ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের উপরে। তার পরিপ্রেক্ষিতে গণঅভ্যুত্থানের মুখে পড়ে শেখ হাসিনাকে পালিয়ে যেতে হয়েছিল দিল্লিতে।’

চিফ প্রসিকিউটরের পদত্যাগ চেয়ে তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর গত চার মাসে আইসিটিতে নতুন কোন রায় আমরা এখন পর্যন্ত দেখি নাই। কোনো নতুন তদন্তের রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয়নি। যে চিফ প্রসিকিউটরকে বসানো হয়েছে তিনি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। তার জায়গায় নতুন যোগ্য, দায়িত্ববান ব্যক্তিকে বসিয়ে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালের মাধ্যমে বিচার নিষ্পন্ন করবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বিদায় নিয়েছে। আর সংস্কার বাস্তবায়ন না করার ফলে বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদেরকে এখন সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কার, বিচার এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য ১১ দলীয় ঐক্যের নেতৃত্বে আমাদের এই লড়াই সংসদ এবং সংসদের বাইরে আমরা চালিয়ে যাব। আপনারা সেটার জন্য কি প্রস্তুত রয়েছেন?’

তিনি বলেন, ‘শরীফ ওসমানে বিচারকে আমরা নিশ্চিত করব। সেই সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার আমরা নিশ্চিত করব। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার নতুন স্বপ্ন দেখছে তাদের পরিণতি আওয়ামী লীগের মতই হবে।’

আইনমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বিচার না করার কারণে তিনি স্পষ্ট ব্যর্থ হয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা দিতে না পারায় তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে তিনি মিডিয়ায় স্পেস দিচ্ছেন, তিনিও স্পষ্টভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সুশীল সমাজকে কেন মিডিয়ায় স্পেস দিচ্ছেন? এই সবকিছুই বাংলাদেশের জনগণ দেখছে।’

১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্যে রাখেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম খান এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, এবি পার্টির সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোওয়ারী, জাগপা সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ।