রিহ্যাবের সেমিনার

আবাসন শুধু ব্যবসায়িক খাতই নয়, উন্নয়নের প্রধান সহায়ক

দেশের আবাসন খাত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরিবর্তনের মুখোমুখি। আগামী ১ জুলাই থেকে প্রস্তাবিত নতুন কর কাঠামো বাস্তবায়নের প্রেক্ষাপটে খাতটির ভবিষ্যৎ, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সাধারণ মানুষের আবাসন ব্যয়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাজধানীর পান্থপথে এক হোটেলে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত এক সেমিনারে এসব কথা বলেন রিহ্যাব সভাপতি ড. আলী আফজাল। 

তিনি বলেন, আবাসন খাত শুধু একটি ব্যবসায়িক খাতই নয়; এটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, নগরায়ন, কর্মসংস্থান এবং জীবনমান উন্নয়নের অন্যতম প্রধান সহায়ক। আবাসন খাতের সঙ্গে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে দুই শতাধিক শিল্প ও সেবা খাত জড়িত। ফলে এই খাতে যেকোনো নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ড. আলী আফজাল বলেন, রিহ্যাব দেশের আবাসন খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নির্মাণশিল্পের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগুলোও বিকশিত হচ্ছে। তাই আবাসন খাতকে শুধু রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে জাতীয় উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত কর ও ফি কাঠামোর কিছু বিষয় আবাসন খাতকে চাপে ফেলতে পারে। বিশেষ করে জমি নিবন্ধন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে আবাসন ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। জমি ও ফ্ল্যাটের দাম বাড়বে, ক্রেতাদের ব্যয় বৃদ্ধি পাবে এবং নতুন বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন আরও কঠিন হয়ে উঠবে।

রিহ্যাব সভাপতি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, জমি নিবন্ধন ব্যয় ১৪ শতাংশে উন্নীত করা হলে বাজারে লেনদেন কমে যেতে পারে এবং আবাসন খাতে স্থবিরতা সৃষ্টি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায়ও প্রত্যাশিত মাত্রায় নাও হতে পারে। বরং করের হার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখলে লেনদেন বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদে রাজস্বও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, আবাসন খাতকে শক্তিশালী করা মানে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। পরিকল্পিত নগরায়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য এ খাতের ধারাবাহিক বিকাশ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকার, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।

সেমিনারে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আবাসন খাতের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সাংবাদিকরা জনসচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে আবাসন খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে। তিনি সরকারের প্রতি আবাসনবান্ধব নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, একটি টেকসই, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়ন নিশ্চিত করতে আবাসন খাতকে আরও উৎসাহ ও সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন।