বাংলাদেশেও ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাটি লিভারের রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। ‘ফ্যাটি লিভারের কি কোনো কার্যকর ওষুধ আছে? অনেকেই জানতে চান। বাস্তবতা হলো, ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় জীবনযাত্রার পরিবর্তনই গুরুত্বপূর্ণ।
ফ্যাটি লিভার : যখন লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা হয়, তখন তাকে ফ্যাটি লিভার বলা হয়। ফ্যাটি লিভারের কারণ হলো অতিরিক্ত ওজন ও স্থূলতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ ট্রাইগ্লিসারাইড, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও জাঙ্কফুড, কিছু ওষুধ, অ্যালকোহল।
ওষুধের ভূমিকা : ভিটামিন ই : রোগীর ক্ষেত্রে ভিটামিন ই লিভারের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, বিশেষ করে যাদের ডায়াবেটিস নেই।
পায়োগ্লিটাজোন : ডায়াবেটিস বা ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে এ ওষুধে উপকার হয়। অ্যালকোহলবিহীন স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (নাশ) লিভারের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে।
জিএলপি-১ রিসেপ্টর : ডায়াবেটিস ও স্থূলতার চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ, যেমন semaglutide, ওজন কমানোর মাধ্যমে ফ্যাটি লিভারে উপকার হয়।
এসজিএলটি-২ ইনহিবিটর : ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে লিভারের চর্বি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
রেসমেটিরম : ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় বহুল আলোচিত ওষুধ। লিভারে জমে থাকা চর্বি কমাতে সহায়তা করে।
কীভাবে কাজ করে : লিভারের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। লিভারের প্রদাহ কমায়।
শুধু ওষুধ যথেষ্ট নয় : ফ্যাটি লিভারের মূল সমস্যা হলো বিপাকীয় অসামঞ্জস্য। ট্যাবলেট দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয় না। রোগী যদি অতিরিক্ত ওজন বহন করেন, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য গ্রহণ , শারীরিক পরিশ্রম না করেন, তাহলে ওষুধে দীর্ঘমেয়াদি ভালো ফল পাওয়া কঠিন।
কোন রোগীর গুরুত্ব : ডায়াবেটিস রোগী, স্থূল ব্যক্তি, লিভার এনজাইম দীর্ঘদিন বেশি, ফাইব্রোসিস ঝুঁকি, ফাইব্রোস্ক্যানে অগ্রসর রোগের ইঙ্গিত, পরিবারে লিভার রোগের ইতিহাস, ভবিষ্যৎ চিকিৎসা, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম, ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ। ফ্যাটি লিভারের চিকিৎসায় ওষুধের কিছু ভূমিকা থাকলেও এটি কোনো ‘শুধু ওষুধে ভালো হয়ে যাওয়ার’ রোগ নয়। জীবনযাত্রার পরিবর্তনই এ রোগ নিয়ন্ত্রণের মূল চাবিকাঠি।