রোনালদোকে 'ভুলে গেলে চলবে না'

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করে মাঠ ছাড়ার সময় ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বলেছিলেন— ‘আই অ্যাম ব্যাক’ (আমি ফিরে এসেছি)। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম ‘আ বোলা’‘স্পোর্ট টিভি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই হুংকারের পেছনের আসল রহস্য এবং নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। সটান জানিয়ে দিলেন, এটি ছিল সমালোচকদের উদ্দেশ্যে এক কড়া বার্তা— “রোনালদোকে ভুলে গেলে হবে না।”

​ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে গোল না পাওয়ায় গত এক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র সমালোচনা ও ট্রোলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল ৪১ বছর বয়সী এই মহাতারকাকে। সেই প্র প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে রোনালদো স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে এক শব্দে জবাব দেন, সবসময় (আমি এভাবেই জবাব দিই)!

​নিজের আবেগের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পর্তুগিজ অধিনায়ক বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে আমাদের ওপর দিয়ে প্রচুর ঝড়

বয়ে গেছে। আমরা অনেক লাঞ্ছনা ও আঘাত সহ্য করেছি। আমরা জানতাম এমনটা ঘটবে। কিন্তু দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, আমরা অনেক উন্নতি করেছি। আসলে যা ঘটে, ভালোর জন্যই ঘটে।”

​সাক্ষাৎকারে নিজের মানসিক যন্ত্রণার কথা স্বীকার করে রোনালদো আরও বলেন, “এটি একটি ভীষণ কঠিন এবং অন্ধকার সপ্তাহ ছিল। চারপাশের কথা শুনে মনে হচ্ছিল আমি যেন ফুটবল থেকেই অবসর নিয়ে নিয়েছি! কিন্তু আমি নিজেকে ধরে রেখেছিলাম, বরাবরের মতোই নিজের কঠোর পরিশ্রমের ওপর বিশ্বাস রেখেছিলাম। স্বীকার করছি, সময়টা কঠিন ছিল, কিন্তু আমরা রাজকীয়ভাবে ফিরে এসেছি।”

​টানা ৬টি বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য বিশ্বরেকর্ড এবং ইউসেবিওকে টপকে বিশ্বকাপে দেশের সর্বোচ্চ গোলদাতা (১০ গোল) হওয়ার কীর্তি নিয়ে রোনালদো বলেন, “রেকর্ড ভাঙা সবসময়ই সুন্দর। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পর্তুগালকে লক্ষ্য পূরণে সাহায্য করা। আমরা এখন ৪ পয়েন্ট পেয়ে গেছি এবং আমার মনে হয় নক-আউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে গেছে। আমি অত্যন্ত আনন্দিত। যারা সততার সাথে কাজ করে, ঈশ্বর তাদের সাহায্য করেন।”

নুনো মেন্ডেসের চমকপ্রদ তথ্য

এদিকে ম্যাচের পর রোনালদোকে নিয়ে এক মজার তথ্য ফাঁস করেছেন দলের ডিফেন্ডার ও গোলদাতা নুনো মেন্ডেস। ম্যাচের ১৭ মিনিটে পর্তুগাল যখন ফ্রি-কিক পায়, তখন সবাই ভেবেছিল ক্রিস্টিয়ানোই শট নেবেন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করা মেন্ডেস হাসতে হাসতে বলেন, “আসলে মাঠের সবাই (এমনকি প্রতিপক্ষও) আশা করে যে ফ্রি-কিকগুলো রোনালদোই নেবে। সেই সুযোগটাই আমি লুফে নিয়েছি এবং গোল করতে পেরেছি।”

​প্রথম ম্যাচের ‘অন্ধকার’ কাটিয়ে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৫-০ গোলের এই বিধ্বংসী জয় আর রোনালদোর এই গর্জন প্রমাণ করে, পর্তুগাল এখন আরও বেশি ঐক্যবদ্ধ এবং রোনালদোর ক্ষুধা এখনও আগের মতোই তীব্র।