মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা

অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করে সংসদের কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনো কাজ সংসদ অধিবেশনের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। বাজেট অধিবেশনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম নিয়ে সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। তাই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের উপস্থিত থেকে বক্তব্য শোনা এবং সম্ভব হলে প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

শফিকুর রহমান বলেন, সংসদকে প্রাণবন্ত রাখতে শুরু থেকেই স্পিকার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায়, যেই মন্ত্রণালয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেই মন্ত্রণালয়ের কোনো প্রতিনিধি অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকেন না।

জবাবে স্পিকার বলেন, বিষয়টি আগের দিনও আলোচনায় এসেছিল। তখন সরকারদলীয় চিফ হুইপ জানিয়েছিলেন, মন্ত্রীরা বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে সংসদ অধিবেশনের গুরুত্বের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি মন্ত্রীদের নিয়মিত উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।

অধিবেশনে মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি : প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা তারেক রহমান বর্তমানে রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে রয়েছেন। এর আগে তিনি মালয়েশিয়ায় ছিলেন। সেখানে তার সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আছেন। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠক বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা কয়েক মিনিট পরে শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না।

বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সরকারি দলের প্রথম সারিতে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী, সমাজকল্যাণমন্ত্রীসহ ৬ জন সংসদ সদস্যকে উপস্থিত দেখা যায়। মন্ত্রীদের মধ্যে আইনমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধ, পানিসম্পদমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। পরে যোগ দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। সাড়ে ৩টার পর অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী অধিবেশনে যোগ দেন। 

সংসদ কক্ষে ‘ছোট ছোট বৈঠক’ নিয়েও অসন্তোষ :

বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ চলাকালে সদস্যদের ছোট ছোট দলে আলোচনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, অনেক সময় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলার মধ্যেই কয়েকজন সদস্য আলাদা করে বৈঠকের মতো আলোচনা করেন, যা সংসদের শৃঙ্খলা ও পরিবেশের জন্য ভালো নয়।

এ বিষয়ে স্পিকার বলেন, তিনিও মাঝে মাঝে সংসদ কক্ষে ছোট ছোট গ্রুপে কথাবার্তা চলতে দেখেন। হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা সংসদের মধ্যে গ্রুপ আলোচনা করার চেষ্টা করবেন না এবং যত সহজ সম্ভব নিজের আসনে বসে সংসদ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করার, অন্তত ভালোভাবে শোনার চেষ্টা করবেন। সংসদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সদস্যদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা ও মমতার বক্তব্য নিয়ে সংসদে আলোচনা : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ তথ্য এবং ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। পয়েন্ট অব অর্ডারে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ এসব বিষয় উত্থাপন করেন। এ সময় তিনি ঋণখেলাপি মামলায় জড়িত দুই সরকারদলীয় সংসদ সদস্যের অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন গুজব নিয়েও বক্তব্য দেন। জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, মির্জা আব্বাস চিঠির মাধ্যমে সংসদকে জানিয়েছেন যে তার শারীরিক অবস্থার ক্রমাগত উন্নতি হচ্ছে। তিনি সুস্থ হলে যথাসময়ে সংসদে যোগ দেবেন।

যারা প্রোফাইল লাল করেছিলেন তাদের জীবন কালো হয়ে যাবে : সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রেহেনা আক্তার রানু বাজেট অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে ‘আয়নাঘরের’ বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার চেয়ারে বসানোর দাবি জানান। তিনি বলেন, অতীতে যে চেয়ারে বিরোধী দলের নেতাদের বসিয়ে ইলেকট্রিক শক দেওয়া হতো, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে সেই একই চেয়ারে বসিয়ে বা শুইয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া উচিত এবং সেটি কেমন লাগে তা তার অনুভব করা দরকার।

বিরোধী দলের উদ্দেশ্যে রেহানা আক্তার রানু বলেন, এই সরকারের চার মাস। বিরোধী দল বলে যে, আরেকটি আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত হন, বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত হন। আমি উনাদের কাছে বলতে চাই, আপনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখুন, প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতা করুন। আপনাদের অনেকের কারণে আবারও যদি দানব হাসিনা... আল্লাহ না করুক, আল্লাহ না করুক, আল্লাহ না করুক, আবারও যদি দানব হাসিনা ফিরে আসে, যারা ফেসবুকে প্রোফাইল লাল করেছিলেন, জীবনটা কালো করে ছাড়বে।

৩১টি চা বাগানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে :  সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর চা বাগানে শ্রমিক কর্মচারীদের বকেয়া মজুরিকে কেন্দ্র করে শ্রম অসন্তোষ সংক্রান্ত একটি বিশেষ প্রতিবেদনে ৩১টি চা বাগানকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।