রিজার্ভ বাড়ানোই সাফল্য নয় কার্যকর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ

আপডেট : ২৪ জুন ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ধীরে ধীরে স্বস্তিদায়ক অবস্থানে ফিরছে। ডলারের বাজারে চাপ কমেছে, আমদানি ব্যয় পরিশোধে সক্ষমতা বেড়েছে এবং রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয়ও ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। তবে শুধু রিজার্ভের পরিমাণ বাড়ানোই অর্থনীতির সাফল্যের একমাত্র সূচক নয়; বরং সেই রিজার্ভ উৎপাদন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে, সেটিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান দেশ রূপান্তরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, কোনো দেশের জন্য সন্তোষজনক মাত্রার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ অবশ্যই স্বস্তির বিষয়। তবে শুধু রিজার্ভের অঙ্ক বাড়লেই প্রকৃত স্বস্তি আসে না। রিজার্ভ কীভাবে গড়ে উঠছে এবং কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২০২১ সালে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি ছিল। তবে বৈশ্বিক জ¦ালানি ও পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে পরবর্তী সময়ে রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি, রপ্তানি আয়ের উন্নতি এবং বৈদেশিক লেনদেনে শৃঙ্খলা ফেরার ফলে রিজার্ভ আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আরিফ হোসেন খান বলেন, বিদেশি ঋণ বা অনুদান নিয়ে কিংবা বৈদেশিক পরিশোধ স্থগিত রেখে কৃত্রিমভাবে রিজার্ভ বাড়ানো হলে তা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দেয় না। বর্তমান রিজার্ভ এ ধরনের কোনো কৃত্রিম ব্যবস্থার মাধ্যমে গড়ে ওঠেনি। অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহের মধ্য দিয়েই রিজার্ভের উন্নতি হচ্ছে।

তিনি জানান, বর্তমানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলার রয়েছে। চলতি বছরের মধ্যেই ৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে এই অর্জনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো রিজার্ভকে অর্থনীতির উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগানো। তার মতে, আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম রিজার্ভ সংরক্ষণ করার পর অবশিষ্ট সম্পদ উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ করা গেলে তা ভবিষ্যতে নতুন আয় সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভিত্তিও আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র বলেন, বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশে ও বিদেশে ১ কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সহায়ক ভূমিকা রাখতে চায়।

এ লক্ষ্যে বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, উৎপাদন সক্ষমতা হারানো কারখানাগুলোকে পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা এবং নতুন বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য বিএমআরই কার্যক্রম, নতুন শিল্প স্থাপন এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানির প্রয়োজন হবে।

আরিফ হোসেন খান বলেন, উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে কর্মসংস্থান বাড়বে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে এবং আমদানি নির্ভরতার চাপ কমবে। একই সঙ্গে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের উৎপাদন বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বৃদ্ধি পাবে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের রিজার্ভ আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ শুধু একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের রিজার্ভ অর্জন নয়। উৎপাদনশীল খাতকে চাঙা করা, বিনিয়োগ বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করাই এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান অগ্রাধিকার।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত