দুই ঘণ্টা পর চট্টগ্রামের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। 

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তনগর 'সোনার বাংলা এক্সপ্রেস' ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল এবং চাঁদপুরগামী 'মেঘনা এক্সপ্রেস' ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঢাকার সঙ্গে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুর রুটে প্রায় দুই ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় আজ বুধবার রাত ৯টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা সাতটার দিকে নাঙ্গলকোটের হাসানপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন তেজের বাজার ও মোঘরা এলাকায় পৃথক এই দুটি ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ৭৮৭ নম্বর সোনার বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মোঘরা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। নির্জন এলাকায় ট্রেনটি আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। কাছাকাছি কোনো সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় নারী ও শিশুদের নিয়ে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে উদ্ধারকারী একটি ইঞ্জিন এসে ট্রেনটি কে গুণবতী রেলস্টেশনে নিয়ে যায়। পাশাপাশি মেঘনা ট্রেনে বগিটিকেও নিয়ে যায়। 

এর কিছুক্ষণ আগেই চাঁদপুরগামী ৭২৯ নম্বর মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনটি হাসানপুরের তেজের বাজার এলাকায় পৌঁছালে এর পেছনের একটি গার্ডবগি লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পরপরই লাইনচ্যুত বগিটি দুর্ঘটনাস্থলে রেখে বাকি অংশ নিয়ে ট্রেনটি চাঁদপুরের উদ্দেশে রওনা হয়।

এ বিষয়ে সোনার বাংলা এক্সপ্রেসের যাত্রী আলমগীর ও জিহাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত বাড়ি ফেরার জন্য ট্রেনে উঠেছিলাম। কিন্তু নির্জন এলাকায় এসে ট্রেনটি আটকে গেল। আমাদের দেশে ট্রেন ভ্রমণ আরামদায়ক হলেও প্রায়ই ইঞ্জিন বিকল বা লাইনচ্যুতির খবর পাওয়া যায়। আমরা দ্রুত এই রেললাইনের সংস্কার ও উন্নত ইঞ্জিনের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে হাসানপুর রেল স্টেশনের সহকারী স্টেশনমাস্টার নাছির উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পৃথক দুটি স্থানে একটি ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল ও অন্যটির গার্ডবগি লাইনচ্যুত হয়েছিল। এর ফলে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে দুই ঘণ্টার মাথায় রেললাইন সচল করা সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই স্টেশন মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে।