ঘানার প্রাচীরে বাধা পড়ল ইংল্যান্ড

মাঠের ফুটবলকে যদি সংগীতের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে ইংল্যান্ডের ‘রক অ্যান্ড রোল’ ছন্দের বিপরীতে ঘানা আজ খেলল এক নিখুঁত ক্ল্যাসিকাল সুর। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘এল’-এর হাইভোল্টেজ ম্যাচে আক্রমণের সব অস্ত্র নিয়েও ঘানার রক্ষণদুর্গ ভাঙতে পারেনি ইংল্যান্ড। পুরো ম্যাচে রেকর্ড ৭৮.৮ শতাংশ সময় বল পায়ে রেখেও গোলশূন্য (০-০) ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে থ্রি-লায়ন্সদের। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো দল গোল না করে এত বেশি সময় বল দখলে রাখার নজির আর নেই।

ফক্সবরোর বোস্টন স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার ইংল্যান্ডের সেই জ্যামিতিক ফুটবলকে অচল করে দিয়ে ঘানার পর্তুগিজ মাস্টারমাইন্ড কার্লোস কুইরোজ ম্যাচ শেষে মুচকি হেসে বললেন, ‘ওরা যখন রক অ্যান্ড রোল বাজায়, আমি তো তখন সাম্বা নাচতে পারি না! প্রতিপক্ষকে হতাশ করাই ছিল আমাদের পরিকল্পনা, আর আমরা তাতে সফল।’

ম্যাচ শেষে ইংলিশ ডাগআউটের জার্মান কৌশলী টমাস টুখেলও অকপটে স্বীকার করেছেন, তার কোচিং ক্যারিয়ারে দেখা অন্যতম সেরা এবং সবচেয়ে কঠিন শারীরিক ফুটবল উপহার দিয়েছে আফ্রিকান ব্ল্যাক স্টারেরা। প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দেওয়া ইংল্যান্ড এই ম্যাচে ছিল স্পষ্ট ফেবারিট। কিন্তু ম্যাচের প্রথমার্ধে ঘানার জমাট রক্ষণের সামনে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামরা এতটাই খেই হারিয়েছিলেন যে, চলতি বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হিসেবে এই লড়াইয়ের প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলমুখে একটিও ‘শট অন টার্গেট’ রাখতে পারেনি।

বিরতির পর ম্যাচের ৫৯ মিনিটে হ্যারি কেইন প্রথম অন-টার্গেট শট নিলেও কুইরোজের শিষ্যরা বক্সের চারপাশে ইংলিশ ফরোয়ার্ডদের বোতলবন্দি করে রেখেছিল। ম্যাচের আসল নাটকীয়তা জমে ওঠে ৮৬ মিনিটে। বদলি নামা তরুণ নিকো ও’রাইলির জোরালো হেড সাইডবারে লেগে ফিরে এলে একদম ফাঁকায় বল পেয়ে যান ইংলিশ অধিনায়ক কেইন। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে তিনি বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারেন। কেইনের এই অপ্রত্যাশিত মিস নিয়ে টুখেল অবশ্য অধিনায়কের পাশেই দাঁড়িয়েছেন, ‘১০০ বারের মধ্যে ৯৯ বারই কেইন এই সুযোগে গোল করবে। টুর্নামেন্টের বাকি সময়ে ও এমন সুযোগ আর মিস করবে না।’

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক সহকারী কোচ কুইরোজের জন্য এটি কোচ হিসেবে পঞ্চম বিশ্বকাপ। ম্যাচ শেষে নিজের ছেলেদের নিয়ে গর্বিত এই কোচ বলেন, ‘বিরতিতে যাওয়ার সময়ই ইংল্যান্ড বুঝে গিয়েছিল আমাদের ভাঙার কোনো উপায় তাদের জানা নেই। আমার মতে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার, তাই তাদের বিপক্ষে এই ১ পয়েন্ট আমাদের জন্য বিশাল অর্জন।’

এই ড্রয়ের ফলে ২ ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘এল’ গ্রুপ থেকে নকআউটের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলেছে দুই দলই। আগামী শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে গ্রুপ সেরা হওয়ার লক্ষ্যে ইংল্যান্ড মুখোমুখি হবে পানামার, আর আত্মবিশ্বাসে উড়তে থাকা ঘানা লড়বে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।