আরেকটি ‘উনদাভ শো’ চাই

আপডেট : ২৫ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

বিশ্বকাপের গ্রুপপর্বে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে আলোচিত দলগুলোর একটি জার্মানি। প্রথম ম্যাচে তারা কুরাসাওকে যেভাবে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে, তাতে ফুটবলপ্রেমীরা নতুন করে জার্মান শক্তির পরিচয় পেয়েছেন। দ্বিতীয় ম্যাচেও জয় এসেছে। যদিও সেটি ছিল তুলনামূলক কঠিন পরীক্ষা। এখন সামনে ইকুয়েডর। এ ম্যাচকে আমি শুধু একটি গ্রুপ ম্যাচ হিসেবে দেখছি না; বরং এটিকে দেখছি জার্মানির সামর্থ্য আরও একবার প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে।

জার্মান ফুটবলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ধারাবাহিকতা। অনেক দল এক ম্যাচে ঝড় তোলে, পরের ম্যাচে ছন্দ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু জার্মানরা সাধারণত এমন নয়; তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলে, ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করে এবং সুযোগ তৈরি করতে ধৈর্য ধরে। এ কারণেই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তারা সব সময় ভয়ংকর প্রতিপক্ষ।

প্রথম দুই ম্যাচে জার্মানির আক্রমণভাগ যে আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার। মিডফিল্ড থেকে দ্রুত বল সরবরাহ, উইং ব্যবহার এবং বক্সের ভেতরে নির্ভুল ফিনিশিং সবকিছুই ছিল চোখে পড়ার মতো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গোল করার দায়িত্ব একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করছে না। বিভিন্ন পজিশন থেকে খেলোয়াড়রা এগিয়ে এসে গোল করছে। এতে প্রতিপক্ষের জন্য তাদের আটকানো আরও কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

ইকুয়েডর অবশ্য সহজ প্রতিপক্ষ নয়। দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলো বরাবরই শারীরিক শক্তি, গতি ও লড়াকু মানসিকতার জন্য পরিচিত। ইকুয়েডরের খেলোয়াড়দের মধ্যেও সেই বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা জানে, এই ম্যাচে ভালো ফল করতে পারলে পরবর্তী পর্বে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যাবে। তাই শুরু থেকেই তারা সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই করবে এটিই স্বাভাবিক।

তবে বাস্তবতা হলো জার্মানির বর্তমান ছন্দ এবং স্কোয়াডের গভীরতা ইকুয়েডরের চেয়ে অনেক এগিয়ে। বিশেষ করে মাঝমাঠে জার্মানদের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। তারা যদি বলের দখল নিজেদের কাছে রাখতে পারে, তাহলে ইকুয়েডরকে দীর্ঘ সময় রক্ষণে ব্যস্ত থাকতে হবে। আর জার্মানির মতো দলের বিরুদ্ধে টানা ৯০ মিনিট রক্ষণ সামলানো কখনোই সহজ কাজ নয়।

আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই এ ম্যাচে জার্মানি আবারও একটি ‘উনদাভ শো’ উপহার দিক। যে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে একটি গোল করে বড় জয়ে ভূমিকা রেখেছে। তার চেয়ে বড় কথা আইভরি কোস্টের বিপক্ষে ২ গোল করে জার্মানদের আনন্দে ভাসিয়েছে। ওই ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে তার দেওয়া গোলটিই জার্মানিকে জয় এনে দিয়েছে। তাই এ ম্যাচেও আরেকটি ‘উনদাভ শো’ দেখতে চাই। তবে শুধু জয় নয়, দর্শকরা এমন একটি পারফরম্যান্স দেখতে চায়, যা বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তাদের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।

আমার বিশ্বাস জার্মানির অভিজ্ঞতা, কৌশলগত শৃঙ্খলা এবং আক্রমণভাগের ধার শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দেবে। আমি এমন একটি ম্যাচ দেখতে চাই, যেখানে জার্মানি শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করবে, দ্রুতগতির আক্রমণে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখবে এবং গোলের পর গোল করে দর্শকদের মুগ্ধ করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত