ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ বাতিল

ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাতিল হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় দেয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করে এ রায় দেয় সর্বোচ্চ আদালত। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান, এ রায়ের ফলে ডেন্টাল সহযোগীরা এখন থেকে চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না। তারা কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন।

আইনজীবীদের তথ্যমতে, ১৯৮৭ সালে চালু হওয়া তিন বছর এবং পরবর্তী সময়ে ২০১৩ সালে এক বছরের ইন্টার্নশিপসহ চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল টেকনোলজি (ডেন্টাল) ডিগ্রিধারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার স্বীকৃতি এবং প্রফেশনাল মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্টাল বা ডিপ্লোমা ডেন্টিস্ট হিসেবে রোগী দেখা এবং ওষুধের ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার ক্ষমতা চেয়ে বাংলাদেশ ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে ২০১৬ সালে হাইকোর্টে একটি রিট হয়। একই বছরের ১৩ জুন হাইকোর্ট রুল জারি করে। পরে চূড়ান্ত শুনানি শেষে ডেন্টাল পরিষদের পক্ষে রায় দেয়। একই সঙ্গে রায়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের কাজের ১০টি পরিধি নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। এর মধ্যে দাঁতের প্রাথমিক চিকিৎসা, লোকাল অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে দাঁত তোলা ও ওষুধ দেওয়ার মতো বিষয়গুলো ছিল।

পরে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে আপিল করে বিএমডিসি। আদালতে বিএমডিসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল হক। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম ও আনোয়ার হোসেন। রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী শিশির মনির ছিলেন। অ্যাডভোকেট আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগের এ সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখতে পারবেন না।